ঝালকাঠি জেলা দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন একটি কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় এক শিশুর বাবার পরিচয় নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত তৃতীয়বারের মতো ডিএনএ পরীক্ষা করেও নিশ্চিত হতে পারছেন না, শিশুটির বাবা কে।
বাদীর দাবি, ডিএনএ পরীক্ষাগারে মূল আসামির রক্তের নমুনা পাল্টে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষক নয়, প্রতিবারই শিশুটির বাবা বলে শনাক্ত হচ্ছেন মামলার সহযোগী আসামি।
রক্তের নমুনা পাল্টে যাচ্ছে—এমন সন্দেহে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক চতুর্থবারের মতো ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন। গত সোমবার তিনি এ আদেশ দেন। তবে এবার ডিএনএ পরীক্ষায় যেন কারচুপি না হয়, সে জন্য পরীক্ষাগারের নাম গোপন রাখেন।
এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী মো. হোসেন আকন বলেন, প্রতিবার ডিএনএ পরীক্ষায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বাদী গরিব হওয়ায় এত টাকা খরচ করতে অক্ষম। তাই এবারের পরীক্ষার জন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদালতের কাছে খরচ বহনের ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের সিটি পার্ক এলাকায় ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে মেয়েটিকে (১৩) ধর্ষণ করেন রানা খলিফা (২১)। এতে তাঁর সহযোগী ছিলেন কিস্তাকাঠি গ্রামের নাদিম মৃধা (২৫)। মেয়েটি ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। কিছুদিন পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়। জানাজানি হলে মেয়েটির মা একই বছরের ১৮ জুন থানায় মামলা করেন। পুলিশ ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ইতিমধ্যে মেয়েটি কন্যাশিশু প্রসব করে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালত শিশুটির বাবার পরিচয় নির্ধারণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দেন। জাতীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে ওই কিশোরী, তার মেয়ে এবং দুই আসামির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, শিশুটির সঙ্গে আসামি নাদিম মৃধার রক্তের ৯৯.৯৯ ভাগ মিল রয়েছে। রানা খলিফার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদনে বাদী আপত্তি দিলে একই পরীক্ষাগারে ২০১৬ সালের ২৫ জুন ডিএনএ পরীক্ষা হয়। তাতেও একই ফল আসে। আবার বাদীর আপত্তির মুখে আদালত পরীক্ষাগার পরিবর্তন করে পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষাগারে রক্তের নমুনা পাঠায়। সেখান থেকে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল একই ফল আসে। আসামিরা এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
বাদী বলেন, মূল আসামি রানা খলিফার সঙ্গে ভূমিষ্ঠ শিশুটির চেহারার হুবহু মিল রয়েছে। তাঁর পরিবার টাকা দিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বারবার ডিএনএর রিপোর্ট পাল্টে ফেলেছে। রানাকে বাঁচাতে তাঁর সহযোগী আসামি নাদিমকে শিশুটির ভুয়া বাবা বানানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে রানা খলিফার ভাই ইমরান খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘তিনবার ডিএনএ পরীক্ষায় একই ফল এসেছে। টাকা দিয়ে প্রতিবেদন পাল্টানো যায়?’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply