বরগুনা প্রতিবেদকঃ
বরগুনার তালতলীতে ১৬মাস পর অপহৃত সালাম (২৭) উদ্ধার হয়েছে। আঃ খালেক নামের এক অপহরনকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ বৃহস্পতিবার জেলহাজতে প্রেরন করেছে। জানা গেছে, উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামের আঃ খালেক আকনের বন্দোবস্তকৃত দেড় একর জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী সেলিম গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দফায় দফায় হামলা মামলা ও পাল্টা মামলাও হয়েছে একাধিক। সেলিমের ভাই রহিম হাওলাদার মানব বেপারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সালামকে গুজে রেখে বড়ভাই সেলিম বাদী হয়ে খালেক আকনসহ ৪জনের বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওসি কমলেস চন্দ্র হালদার মামলাটি তদন্ত শেষে মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এরপর বাদী আদালতে চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদন করলে আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে ১নং আসামি আঃ খালেক আকনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।
অপহরন থেকে উদ্ধার হওয়া সালাম জানান, উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামের আঃ খালেক মালদ্বীপে নেয়ার নামে তার কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন। তারপর গত বছরের ৩ জানুয়ারী ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল ও পাসপোর্ট করার কথা বলে একটি প্রাইভেট গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। গাড়ীতে বসেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পরে। জ্ঞান ফেরার পর সালাম জানতে পারে তিনি ভারতের একটি ভবনে আটকা আছে। সেখানে দীর্ঘ ১৬মাস আটক থাকার পর ভারতীয় এক মহিলার সহায়তায় সম্প্রতি বাংলাদেশের ঢাকায় আসে। সালামের বড়ভাই সেলিম হাওলাদার খবর পেয়ে ১লা মে ঢাকা থেকে তাকে এগিয়ে বাড়ী এনে পরদিন ৩ মে থানায় সোপর্দ করেন। এ সময় পুলিশ মামলার ১নং আসামি আঃ খালেককেও আটক করে।
তালতলী থানার ওসি কমলেস চন্দ্র হালদার বলেন, খালেক আকন গংদের বিরুদ্ধে সেলিম হাওলাদারের দেয়া অপহরণ মামলাটি তদন্তকালে মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছি। আদালতে সেলিম নারাজী দেয়ায় বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি খালেক আকনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এদিকে অপহৃত সালাম উদ্ধার হলে তাকে জবান বন্দির জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply