, ,

শিরোনাম :
ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা ​বরিশালের সেরা প্যানেল আইনজীবীর সম্মাননা পেলেন অ্যাড. মো: তারিকুল ইসলাম ভ্যানচালকের ঘরে দুটি ‘কবর’ জেগে উঠেছে বলে দাবি, ঝাড়ফুঁক নিতে ভিড় ‘আ.লীগ গোপনে নয়, ওপেনে ঢাকা দখল করবে’ পোস্টের পর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা বন্ধ করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব, বরিশালের ৬ রুটে বাস-থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ বরিশালে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা বরিশালে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯ ককটেল উদ্ধার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মারা গেলেন প্রবাসী বাবা

পিরোজপুরে বসে শ্রম কেনা-বেচার হাট!

dynamic-sidebar

শীতের হালকা কুয়াশা আর হিম শীতল হাওয়ার মাঝে বাজার করার ব্যাগ ও কাস্তে নিয়ে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কারও বয়স ১৫, কারও ৩৫ কারো বা ৫০ এর অধিক। হবে কেনা-বেচা, তাই এই দীর্ঘ লাইন। এভাবেই চলছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মানুষ তথা শ্রম কেনা-বেচা।

প্রাচীনকাল ও মধ্যযুগের দাস প্রথা বিলুপ্ত হলেও একাবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির যুগেও দুই বেলা খাবারের জন্য কেনা-বেচা হয় মানুষ। বসে মানুষ কেনা-বেচার হাট।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর সভার সম্মুখ সড়কে (চৌ রাস্তা) প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে শুরু হয় মানুষ ক্রয়-বিক্রয়। ধান কাটা, আঁটি টানা, মাটি কাটা, গাছ কাটা, রাজ মিস্ত্রীর যোন, দিনমজুরসহ নানা পেশার শ্রমজীবী মানুষে সরগরম হয়ে ওঠে এই বাজার।

এ বাজারে শ্রমিক কিনতে আসেন মালিকরা। অনেক মানুষ শ্রমের বিনিময়ে বিক্রি হলেও অনেকেই থেকে যান অবিক্রিত।

উপজেরার ঘোষের টিকিকাটা গ্রামের কামাল মিয়া (৩৫) জানান, পরিবারের অবস্থা ভাল না থাকায় লেখা-পড়া করতে পারিনি। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য নিজেকে প্রতিদিন বিক্রি করতে আসি মানুষের হাটে। দামও ভাল পাই। কোনো দিন ৫ শ আবার কোনো দিন ৬ শ টাকা। আবার ভাগ্যের পরিহাসে কোনো কোনো দিন থেকে যাই অবিক্রিত।

নিজেকে বিক্রি করতে আসা উপজেলার শাপলেজার শাহ আলম (৪৮) ও উত্তর হলতা গ্রামের আবু হানিফ (২৭) জানান, খুব ভোরে জোর পায়ে (দ্রুত) হেটে চলে আসি এ হাটে। মালিকদের সাথে দর কষা-কষি করে চলে যাই মালিকের পিছু পিছু। সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে পাই ৫/৬ শ টাকা। তা দিয়ে বাজার করে বাড়ি ফিরি। এভাবেই চলে সংসার।

তারা জানান, এখন ধান কাটার মৌসুম। তাই কাজ বেশি দামও ভালো। তবে বর্ষা মৌসুমে কাজ কমে যায়, তখন কষ্টের দিন যেন শেষ হতে চায় না।

বাজারে মানুষ কিনতে আসা দক্ষিণ মিঠাখালীর দুলাল হাওলাদার ও ঘটিচোরা গ্রামের মাজেদা বেগম জানান, মাঠে ধান পেকে আছে, তাই শ্রমিক নিতে এসেছি। আগে ৩৫০ থেকে ৪ শ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত। এখন ৬ শ টাকা আবার দুপুরে তাদের খাবার ছাড়া কেউ যেতেই চায় না। শ্রমিকদের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়েই কিনতে হচ্ছে শ্রম।’

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net