বরিশাল শহরের সড়কগুলো দখলমুক্ত রাখতে সিটি কর্পোরেশন পুরোপুরি হার্ডলাইনে থাকলেও যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বরং নতুন নির্মাণাধীন ভবন মালিকরা নির্মাণসামগ্রী রেখে বাকিটুকু দখলে নিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। ফলে সড়কগুলো দিয়ে যাত্রীবাহি যানবাহন বা সাধারণ পথচারী চলাচলে সীমাহিন ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভাটিখানা বাজার সড়ক, নিউ ভাটিখানা, বিসিক সড়ক, আমানতগঞ্জ, ফকিরবাড়ি, বগুরা রোড, পুলিশ লাইন, সাগরদী, বিএম কলেজ রোড, কাউনিয়া প্রধান সড়ক, রুপাতলী সড়কে নির্মাণসামগ্রী রাখায় ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে।
এমতাবস্থায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও সড়ক দখলমুক্ত করতে কোন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে সড়কে নির্মাণসামগ্রী রেখে ভবন গড়ে তোলার রীতি-নীতি প্রায়শই বাড়ছে। মঙ্গলবার বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও সড়কের ওপর নির্মণসামগ্রী লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য নির্মাণসামগ্রী রাখা স্থানগুলোর আশপাশ থেকে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও দৃষ্টিতে এসেছে। বিশেষ করে ভাটিখানা বাজার সড়কে নির্মাণসামগ্রী বালু রাখার কারণে পথ অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে আসছে। তাছাড়া ড্রেনের ওপরেও বালু রাখা হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারী হাঁটতেও ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। একই অবস্থা নিউভাটিখানা বা বিসিক সড়কের। বিএম কলেজ ও কাউনিয়া প্রধান সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী।
এক্ষেত্রে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাসার অদূরে ফকির বাড়ি রোডেও সড়কে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। এছাড়া রুপাতলী, সাগরদী, পুলিশ লাইনসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্রও একই।
এক্ষেত্রে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সড়ক পরিদর্শকের ভাষ্য হচ্ছে- সড়কে নির্মাণস্থাপনা রাখা সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। কিন্তু তার পরেও অনেকেই রাখছে, সেগুলো অভিযান করে জব্দ করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ একটি সড়ক দখলমুক্ত করার আগেই আর একটিতে ফের রাখা হচ্ছে। তবুও সড়কের শৃঙ্খলা বা যানবাহন চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী সড়কে রেখে যারা ভোগান্তি তৈরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তার কোন উত্তর নেই তার কাছে।
এই বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) খায়রুল ইসলাম বলছেন- সড়কে নির্মাণসামগ্রী রাখার কোন সুজোগ নেই। যদি কোন ব্যক্তি রেখে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply