সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৪৩

শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে জেলের জালে ধরা পড়ল ২৬ কেজির ভোল মাছ পদ্মাসেতুর সুফল মিললেও শিল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই বরিশালে ভোলা-বরিশাল সেতু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ৩ নেতাকে মারধর! বিক্ষোভের মুখে এবার বরিশালের সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহার লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জবাসী বানারীপাড়ায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০ বরিশালের ৬ রুটে চলছে বাস ধর্মঘট, যাত্রীদের ভোগান্তি জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জীবনের অনুপ্রেরণা : বরিশাল সিটি প্রশাসক

স্মৃতিকথা : ছোটকালে-বরিশালে

dynamic-sidebar

ইতি বনিক: খুব ছোট বেলায় আমি আর ছোটদি দুজনে মিলে চুপি চুপি কাকডাকা ভোরে দরজা খুলে বেরিয়ে যেতাম মায়ের পুজার জন্য ফুল আনতে। তখন বরিশাল কলেজ এর ভিতরে ফুলের বাগান ছিল। খুব শুকনা ছিলাম বলে অতি সহজেই কলেজের প্রাচীর টপকে বাগানে নেমে ফুল তুলে নিয়ে আসতাম, আরও ভাল করে বললে চুরি করে নিয়ে আসতাম। এ ছাড়া আরও দু বাসায় যেতাম কাঠ মালতি ও জবা, ঝুমকো আনতে। মাঝে মাঝে দুর্জয় দা পথ আগলে দাঁড়াত ফুলের ভাগ নেবার জন্য। তাই খুব ভয়ে ভয়ে ফুল তুলে এক ছুটে বাসায় আসতে চাইতাম। তারপর মা যখন সেই ফুলে পুজা সেরে ধুপ জ্বালিয়ে চন্দন বা বাবার ইন্ডিয়া থেকে আনা অগুরু ছিটিয়ে দিতেন সে সময়ের ঘরের স্বর্গীয় আবহাওয়াটা এখনও চোখ বন্ধ করে অনুভব করতে পারি।

আমাদের মামাবাড়ি আমাদের ছোটবেলার জীবনে এক অনন্য সুখস্থান ছিল। বছরে কম করে হলেও দুবার যেতাম। এক পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বরে আর গ্রীষ্মের ছুটি তে। বেশি মজা হতো শীতের সময়ে। সে সময়ে ধান উঠত। সমস্ত উঠোন জোড়া ধান, খড়কুটো আর তার উপর উঠে সারাদিন লাফালাফি, শীতের সকালে খেজুরের রস, আর মামির হাতের রসের পায়েসের স্বাদ যেন এখনও মুখে লেগে আছে। বাড়িতে পুকুর থাকা সত্ত্বেও বাড়ির দরজায় খালে স্নান করতে যেতাম। কাদার মধ্যে ছোট গর্ত থেকে ছোট ছোট কাঁকড়া বা ছোট মাছ খুঁজতাম। এ ছাড়া সবচেয়ে খারাপ যে কাজটা করতাম তাহলো খালে কোন একটু দুরের বাড়ির হাঁস দলবেঁধে আসলে তা ধরার চেষ্টা করতাম। দু এক বার যে তাতে সফল হতাম না তা নয়, কিনতু মামার বকুনিতে সব আনন্দ মাটি হয়ে যেত। আমাদের সাথে সাথে মামিও তখন মামার বকা শুনত। হায় বেচারি!

আমরা যে বাসাতে থাকতাম সেই বাসাতে আমরাসহ আরও ভাড়াটিয়া থাকতো। তাই একসাথে আমরা অনেকে ঠিক ভাইবোনের মতো বড় হয়েছি। গরমের সময় কারেন্ট চলে গেলে হ্যারিকেন নিয়ে সবাই ছাদে চলে যেতাম। হাতে করে বই ঠিকই নিয়ে যেতাম তবে পড়াশুনাটা তেমন হতো না। বরং কে কেমন ভুতের গল্প বলতে পারে, আর অন্ধ্কারে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে ভয় পাওটাই ছিল আসল কাজ। আজও সে সব কথা মনে হলে শিহরিত হই।

আমাদের সন্তানেরা এমন কোন মধুর স্মৃতি নিয়ে বড় হচ্ছে না। পড়াশুনার শেষে যেটুকু সময় পায় তা ওই মোবাইল, কম্পিউটার, বা টেলিভিশনের কোন কার্টুন চ্যানেলে আটকে থাকে। সব শেষে সেই পরিচিত বিছানায় ঘুম। ওরা তো কোনদিন জানতেই পারল না ধান ওঠার সময়ে উঠোনের একপাশে পরবাসিদের তৈরি খড়কুটোর ঘরের খড়কুটোর বিছানায় বিছানো ছেড়া কাঁথায় শোবার শান্তি, কিংবা পরবাসিদের সাথে লুকিয়ে পান্তা ভাত, কাঁচা পেঁয়াজ, আর কাঁচা বা শুকনা মরিচ পোড়া দিয়ে ভাত খাবার সুখ। এখন তো ওরা নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে বারান্দা দিয়ে হাতটা গলিয়ে চাঁদের আলোটাও গায়ে মাখতে পারে না, পারেনা অন্ধকারে ঝাকেঝাকে জোনাকির আলো কি ভাবে মশাল হয় তা দেখতে। জীবন এ ভাবেই চলে যাচ্ছে।

যখন একা থাকি, নিজেকে খুব একা লাগে তখন ডুব দেই নিজের এই আনন্দময় ভুবনে। আমার এ লেখা আমার বনধু তথা আমার প্রানপ্রিয় মানুষ গুলোর জন্য, আমার সন্তানের জন্য। হুট করে হয়তো একদিন চলে যাব না ফেরার দেশে। তখন কোন এক অলস দুপুরে আমাকে মনে পড়লে আমার এ লেখাটা পরে যদি আমাকে একটুকও খুজে পায় সেটাই হবে আমার এই লেখার সার্থকতা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net