, ,

শিরোনাম :
ভ্যানচালকের ঘরে দুটি ‘কবর’ জেগে উঠেছে বলে দাবি, ঝাড়ফুঁক নিতে ভিড় ‘আ.লীগ গোপনে নয়, ওপেনে ঢাকা দখল করবে’ পোস্টের পর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা বন্ধ করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব, বরিশালের ৬ রুটে বাস-থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ বরিশালে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা বরিশালে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯ ককটেল উদ্ধার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মারা গেলেন প্রবাসী বাবা বিএনপি নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, বহিষ্কারের দাবি বরিশালে নিঁখোজ কিশোর উদ্ধার, হানিট্রাপ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
বরিশালে মাদ্রাসা ছাত্রীকে মুখে গামছা বেঁধে  নির্যাতনের অভিযোগ

বরিশালে মাদ্রাসা ছাত্রীকে মুখে গামছা বেঁধে  নির্যাতনের অভিযোগ

dynamic-sidebar

স্টাফ রিপোর্টার : একশ’ টাকা চুরির অপবাধ দিয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেনীর (তৃতীয় জামাতের) শিশু ছাত্রীর (৮) মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর অবস্থায় নির্যাতিতা শিশু ছাত্রীকে তার মা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসার আবাসিক হলে।

নির্যাতিতা ওই শিশু ছাত্রীর মা উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ কামাল হোসেন বেপারীর স্ত্রী রেনু বেগম জানান, প্রায় সাড়ে তিনবছর পূর্বে তার একমাত্র শিশু কন্যা কামরুন নাহার সুমাইয়াকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে (সুমাইয়া) মাসিক তিন হাজার টাকা চুক্তিতে মাদ্রাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় মাদ্রাসার তিন নারী শিক্ষক সুমাইয়াকে রাতে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। খবর পেয়ে তিনি সকাল দশটার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার শিশু কন্যা সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন। এসময় মাদ্রাসার বড় খালামনি (সুপার) তাকে জানায়, অপর এক ছাত্রীর একশ’ টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোন ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি।

নির্যাতিতা শিশু ছাত্রী সুমাইয়ার বরাত দিয়ে তার মা রেনু বেগম আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একশ’ টাকা চুরির অপবাধ দিয়ে মাদ্রাসার সুপার (বড় খালামনি হিসেবে পরিচিত) ও মেঝ খালামনি এবং বাংলা খালামনি তার মেয়ে সুমাইয়ার মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে। কান্নাজড়িত কন্ঠে রেনু বেগম বলেন, বড় খালামনির নির্দেশে মুখে গামছা বাঁধার পর মাদ্রাসার আবাসিক হলের মেঝ খালামনি গুনে গুনে তার মেয়েকে ৬০টি ও বাংলা খালামনি ১০০টি বেত্রাঘাত করেছে। এতে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ার পরেও তাকে (সুমাইয়া) রাতের খাবার দেয়া হয়নি। খবর পেয়ে তিনি সকাল দশটার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক হলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর অবস্থায় তার শিশু কন্যা সুমাইয়াকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (০১৭৯১-১২৭৩৪৯) নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেকোন অপরাধ করলে কওমী মাদ্রাসায় শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে। এ আইন সারাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রচলিত। তাই টাকা চুরির ঘটনায় ছাত্রী সুমাইয়াকে মাদ্রাসার খালামনিরা (শিক্ষক) শাসন করেছে। শিশু শিক্ষার্থী সুরাইয়াকে নির্যাতনকারী ওই তিন শিক্ষকের নাম জানতে চাইলে তিনি দম্ভ করে বলেন, মাদ্রার প্রধান সুপার (বড় খালামনি) আমার স্ত্রী, অন্যদুইজনও আমার নিজস্ব লোক, তাদের নাম বলা যাবেনা। তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসার প্রধান সুপারকে বড় খালামনি, সহকারী সুপারকে মেঝ খালামনি ও অন্য শিক্ষকদের সাবজেট অনুযায়ী বাংলা খালামনি কিংবা আরবী খালামনি হিসেবেই ডাকেন শিক্ষার্থীরা

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net