অনলাইন ডেস্ক :মোবাইল ফোন গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গেলে কর্মীরা নানাভাবে বুঝিয়ে দায় এড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বিটিআরসির কল সেন্টারে ফোন করলে অধিকাংশ সময় সাড়া মেলে না। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভাস সেবায় কনটেন্ট প্রোভাইডাররা গ্রাহকের অজান্তেই নানা রকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করে দিয়ে টাকা কেটে নিচ্ছেন গ্রাহকদের। সম্প্রতি বাংলালিংকের গ্রাহক সরকারের একজন যুগ্ম সচিবও প্রতারণার শিকার হয়ে বিটিআরসিতে অভিযোগ করেছেন। আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গত দুই মাসেই এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সমকালকে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের হয়রানি প্রতিকারের লক্ষ্যে বিটিআরসির ওয়েবসাইটে পৃথক পেজ খোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগ :বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবীর গত ৬ আগস্ট বিটিআরসিতে দায়ের করা অভিযোগে বলেন, তিনি বাংলালিংকের একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করেন। এই নম্বরে ছয় মাসে তার নম্বরে ‘সিমবায়োটিক সার্ভিস’, ‘মোবাইল ম্যাজিক’ ‘প্রোইয়োরটেক, ‘রিয়েলটেক’ ‘ওয়াপজোন পোর্টাল’ ‘পিন্ড পোর্টাল’সহ এ ধরনের আরও একাধিক সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় এবং তার অনুমতি ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় মাসে প্রায় ৩৬০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। তিনি বাংলালিংকের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, সেবা গ্রহণের বিপরীতে তার টাকা কেটে নেওয়ার রেকর্ড দেখা যাচ্ছে। এসব সার্ভিস চালু করার আগে তার অনুমতি না নেওয়ার কথা জানালে গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমা পড়া অভিযোগে দেখা যায়, গত ২৫ জুলাই একটি অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন স্বপ্নীল চক্রবর্তী নামে একজন গ্রাহক। তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, ১৭১ টাকা দিয়ে চার জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনেছিলেন তিনি। যার মেয়াদ ছিল ৭ দিন। গত ২৪ জুলাই প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যালান্স থেকে ৬১ টাকা কেটে নেওয়া হয়। তাকে নতুনভাবে ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার জন্য মেসেজ দেওয়া হয়নি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জানানো হয়, ইন্টারনেট কেনার জন্য এই চার্জ করা হয়েছে। অথচ তিনি কোনো প্যাকেজ কেনাকাটা করেননি।
টেলিটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন জনৈক মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে তার সিম থেকে বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে অভিযোগ করা হলে তাকে জানানো হয় ‘এলিন’ নামের একটি সার্ভিসের জন্য টাকা কাটা হচ্ছে। এটি বারবার নিজে থেকে চালু হয়ে যাচ্ছে। চালু হলে তা বোঝা যায় না। কোনো এসএমএস আসে না। গ্রাহকের অজান্তেই কেটে নেওয়া হচ্ছে টাকা। এটা বন্ধ করার জন্য তিনি গত প্রায় পাঁচ মাসে ছয়বার কাস্টমার কেয়ারে গিয়েছেন এবং কল করেছেন। কিন্তু প্রতিকার পাননি।
রবির বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই অভিযোগে গ্রাহক মাহমুদুর রহমান বলেন, অফার দিয়েও তা দেয়নি রবি। অফার ছিল ৪৬ টাকা রিচার্জ করলে ১ জিবি ইন্টারনেট, মেয়াদ ৫ দিন। সঙ্গে নিয়মিত অফার ১২০ এমবি, মেয়াদ ২৮ দিন। ওই দিন ২৯ জুন দুপুর ১২টায় তিনি রিচার্জের পরে শুধু ১২৮ এমবি দেয়। এর পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখেন অফার অনুযায়ী তিনি ১ জিবি পাননি। এর পরে অভিযোগ করলে পরের দিন রবি জানায়, তিনি এই অফারের যোগ্য নন। মাহমুদুর অভিযোগ করেন, তিনি যোগ্য না হলে এসএমএস দিল কেন? এর পরে এসএমএসটি আবার পাঠাতে বলেছেন। এরপর উত্তর আসে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার। নতুন করে সব তথ্যসহ আবারও এসএমএস দেওয়া হয়। আবারও একই এসএমএস উত্তর দেয় রবি। ৩০ জুন রাতে রবি লাইভ চ্যাটে আবারও অভিযোগ করা হয়। তখন রবি অভিযোগসহ আগের এসএমএসসহ ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়। যদিও ওই এসএমএস ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্রাহকদের অন্যান্য অভিযোগও একই রকমের।
এর বাইরে একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে_ হঠাৎ করেই তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে বলা হচ্ছে, নম্বরটি বিটিআরসি বন্ধ করেছে। গ্রাহকরা বিটিআরসির অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত নম্বরের পরিবর্তে নতুন নম্বর নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য :মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির সমকালকে বলেন, মোবাইল ফোনে সেবার ক্ষেত্রে এখন বেশি
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply