শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:০৪

ভিসি নিয়োগে ঢিলেমি, ববিতে বাড়ছে অস্থিরতা

dynamic-sidebar

শফিক মুন্সি  : ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে না করতেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে দক্ষিণ বঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খ্যাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে। আন্দোলনের মুখে সাবেক ভিসি ড.ইমামুল হকের অপসারিত হবার পর থেকে কার্যত আজ প্রায় দুইমাস হতে চললো প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পদটি শূণ্য অবস্থায় আছে। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষা কার্যক্রম থমকে যাবার সম্ভাবনার সাথে সাথে এখন প্রশাসনিক কাজেও সৃষ্টি হয়েছে শিথিলতা। এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা জনাব বাহাউদ্দিন গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,” ভিসি ও রেজিস্ট্রার পদদুটি দীর্ঘদিন শূণ্য অবস্থায় থাকার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ফাইলে স্বাক্ষর আটকে আছে।

যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে অচলায়তন সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে দ্রুত ভিসি এবং রেজিস্টার পদদুটিতে যদি নিয়োগ না দেওয়া হয় তবে আগামী মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরিরত সবার বেতন-ভাতা আটকে যাবার সম্ভাবনা আছে “। এদিকে সাবেক ভিসির শেষ কর্মদিবসে অবৈধভাবে তিনজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দায়িত্ব অর্পন করায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত সবার মাঝে। এমতাবস্থায় সবার আশংকা দ্রুত নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ও গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” ভিসি নিয়োগ হচ্ছেনা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে আছে এটা সত্যি।তবে আমাদের বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাদের একজন সৎ এবং যোগ্য ভাইস চ্যান্সেলর উপহার দিবেন।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী রা আগামী ভিসির কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা রাখে। ”

ভিসি নিয়োগের ব্যাপারে শিথিলতার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণকেই দুষছেন। অনেকে আবার ধারণা করছেন বারবার ভিসি বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হবার ফলে এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বোচ্চ পদে কে বসবেন সে ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সময় নিয়ে ভাবছেন। উল্লেখ্য, ঢাবি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহাবুবের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বরিশাল অঞ্চলের এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা আরেক ঢাবি অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সেটি ঝুলে গেছে।এদিকে কিছু গণমাধ্যমের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গাজীপুরের ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির(ডুয়েট) গণিত বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবু নাঈম শেখকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে তৎপরতা শুরু করেছিলো ।

তবে তার বিরুদ্ধে জামাত সংশ্লিষ্টতা ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সূত্রমতে, ওয়ান ইলেভেনের সময়ে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেক ছাত্রলীগ কর্মীকে তিনি হেনস্থা করেছেন। গুঞ্জন আছে ডুয়েটের সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামকে চাকরি পাইয়ে দিতে তিনি তদবির পর্যন্ত করেছিলেন।এসব ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, ” শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ‘ উপাধী দেওয়া স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্থ ভিসিকে আমরা অপসারণ করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য। মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সকল শিক্ষার্থীর একটাই আবেদন তাঁরা যেন দ্রুত একজন সৎ,যোগ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ভিসি স্যার নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাকাঙ্খিত অচলায়তন দূর করেন “।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net