নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যাত্রী হয়রানীতে বরিশালে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসগুলো। ঈদ কিংবা যে কোন উৎসবের আগে পরে যাত্রী হয়রানীর মাত্রা আরো বহুগুন বেড়ে যায়। এবারের কোরবানীর ঈদে ঘরে ফেরা মানুষগুলো কর্মস্থলে ফেরার মুহুর্তে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুন আদায় করার পাশাপাশি বস্তার ভিতরে আলু ভর্তি করার মতো যাত্রীদের মাইক্রোবাসে তুলে ঝুঁকি নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় মাইক্রোবাস। অতিরিক্ত ভাড়া প্রদানে রাজী না হলে মাইক্রোবাসের স্টাফদের সাথে যাত্রীদের তর্কাতর্কি এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আর এদের রয়েছে একটি দালাল সিন্ডিকেট। ফলে অদূরে দাড়িয়ে থাকা পুলিশ প্রশাসনের লোকজনও এগুলো দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। গত ৩ দিন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাকেরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নথুল্লাবাদ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আসা যাত্রী সবুজ, কালাম ও হায়দারসহ একাধিক যাত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, সাধারণত একটু আগে ঢাকা পৌঁছানোর জন্য মাইক্রোবাসে যাই। অন্যান্য সময় জনপ্রতি ২শ’ থেকে আড়াইশ টাকা ভাড়া নিলেও এখন জনপ্রতি ভাড়া ৫শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া মাইক্রোবাসের সামনে সিটে বসতে হলে জনপ্রতি ৬শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, দ্বিগুনের চেয়ে বেশি ভাড়া দাবী করায় আমরা এর প্রতিবাদ করি। এ কারণেই আমাদের তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায় ৬/৭ জন এসে আমাদের মারধর করে। রহমান নামের এক যাত্রী জানান, স্ত্রীসহ ঢাকায় যাওয়ার জন্য সামনের সিটে বসে ভাড়া দিতে গেলে ১৫শ’ টাকা দাবী করে। আমি প্রথমে এক হাজার টাকা দিয়েছিলাম। পরে বেশি টাকা চাওয়ায় আমি মাইক্রো থেকে নেমে যাই। কিন্তু আমাকে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে জসিম মাস্টার। যিনি একটি স্কুলের শিক্ষক হয়েও শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রন করেন। এছাড়া তার নিজস্ব লোক হিসেবে মাইক্রোস্ট্যান্ডের টাকা তোলে তার ভাই জিয়াউদ্দিন। জানা গেছে, জামাই শহিদের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই মাইক্রো স্ট্যান্ড দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে জসিম মাস্টার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, প্রতিটি মাইক্রো নথুল্লাবাদ থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয় জসিম মাস্টারকে। এছাড়া পথে পুলিশ বিট, তেল খরচ মিলিয়ে খরচের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। প্রিয় পাঠক জসিম মাস্টার ও তার ভাই জিয়াউদ্দিনের হাতে শ্রমিক ও যাত্রী নির্যাতনের আরো কাহিনী জানতে চোখ রাখুন আগামী সংখ্যায়।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply