বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৪৯

বরিশাল ল-কলেজ অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা দাবী ॥ ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ছাত্রলীগ নেতা

বরিশাল ল-কলেজ অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা দাবী ॥ ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ছাত্রলীগ নেতা

dynamic-sidebar

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কলেজ অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সাথে অধ্যক্ষের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘন্টা পর কলেজ অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পান ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জসীম। বুধবার সন্ধায় বরিশাল ল-কলেজে অধ্যক্ষের রুমে এ ঘটনা ঘটে। জানাগেছে বরিশাল-ল কলেজের সাবেক ছাত্র ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জসীম কলেজ অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ শংকর চ্যার্টাজির কাছে চাঁদা দাবী করে। কলেজ অধ্যক্ষ ঐ চাঁদার টাকা দিতে অশ্বিকার করলে জসীম তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল আওয়ামীলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা ল-কলেজে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম জসীম অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান। কলেজ অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ শংকর চ্যার্টাজি জানান, আমিনুল ইসলাম জসীম কলেজ থেকে পাশ করে বের হয়ে গেছে। কিন্তু সে পুনরায় ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেন। একই সাথে জসীম কলেজে কোন কমিটি না থাকা সত্বেও প্রায় সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে টাকা দাবী করেন। এমনকি কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে কলেজে বিশৃংখলার সৃষ্টি করে। তবে কলেজ অধ্যক্ষের কথা সম্পূর্ন মিথ্য বলে জানান ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জসীম। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে যোগ দানের পর থেকে অথ্যক্ষ বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে তিনি বলেজের ছাত্রলীগের কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্থ করছেন। চাঁদা দাবীর বিষয়ে জসীম জানান, কলেজের উন্নয়নমুলক কিছু কাজের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সন্ধার পর আলোর অভাবে সিড়ি থেকে নামতে ও গরমে দূভোগের কথা চিন্তা করে একটি ফ্যান ও লাইটের কথা বলা হয়েছিল। সেটাকেই অধ্যক্ষ চাদা হিসেবে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে ল-কলেজের আর একজন শিক্ষার্থী নাদিরা সুলতানা চায়না জানান, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ আমাদের কোন কথাই কানে শেনেননি। চায়না আরো জানান, বরিশাল ল-কলেজে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। অথচ তা মেনে নিতে নারাজ কলেজ অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ শংকর চ্যার্টাজি। ঘটনার সময় বরিশাল-ল কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ শংকর চ্যার্টাজি ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে বিব্রত হয়ে কলেজ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুশীয়ারী দেন। তিনি ছাত্রলীগ নেতা জসীমের বিরুদ্ধে আলাদা ভাবে মামলা করবেন বলেও হুশীয়ারী প্রদান করেন। তিনি বলেন যোগদানের পর থেকে তাদের দাবীর মুখেই রয়েছি। বিভিন্ন সময় হুমকী ধামকী শুনে এখন আর কলেজের চেয়ারে বসার ইচ্ছে নেই। এব্যাপারে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসেন জানান, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আর এর সুষ্ঠ সমাধাও হয়েগেছে। এসময় আওয়ামীলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা জিয়াসহ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্য আওলাদ হোসেনের কাছে জনাতে চাইলে তিনি জানান, বরিশাল ল-কলেজে কোন একটা সমস্যার কথা জানতে পেরে পুলিশের টিম পাঠিয়েছি, ফিরে আসলে বিস্তারিত বলতে পারবো।
সংগ্রহীত-বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডেস্ক

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net