নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসিসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি করা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বদলিকৃত ৩ পুলিশ কর্মকর্তারা হলো,সহকারী পুলিশ কমিশনার আঃ হালিম (বিমানবন্দর থানা), বিমানবন্দর থানার ওসি এসএম মাহবুবুল ইসলাম ও বিমানবন্দর থানার এস.আই মনির।
বিমানবন্দর থানার ওসীর বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেলেও কি কারনে বদলি হয়েছে সে বিষয়টি জানাননি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী মিলি ইসলাম’র হত্যা মামলার বিভিন্ন জটিলতার কারনেই এই ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
যদিও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মিলির প্রেমিক পুলিন চন্দ্র সরকারকে (৩৯) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
পুলিন সরকার নগরীর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিষয়ের শিক্ষক। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়।
চলতি বছর ১৮ মে বুধবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এবং গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও প্রায় ২ মাস পরে জেল থেকে ছাড়া পায় মাললার আসামী ও মিলির প্রেমিক পুলিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি আরও জানায়, মিলির এক ঘনিষ্ট আত্বীয় পুলিশের বড় কর্মকর্তা। মিলি হত্যায় বিষয়টি তিনি সহজ করে মেনে নিতে পারেন নি। তাই হয়তো এই বদলির আদেশ জারি ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলির লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে মিলির মা বাদী হয়ে পুলিন সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুলিন সরকার নিহত মিলির বড় বোনের ছেলের গৃহশিক্ষক ছিলেন। নগরীর নতুনবাজার সড়কে বোনের বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন মিলি। এ সুবাদে পুলিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩ মে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ফিশারি সড়কের একটি ভবনের দোতলার ফ্ল্যাট থেকে মিলির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিজেকে বিবাহিত দাবি করে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন মিলি। মৃত্যুর আগের দিন তিনি ওই বাসায় ওঠেন।
মিলির ফুফাতো ভাই সোহাগ হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, পুলিন সরকার ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় তাদের প্রেম মেনে নেয়নি মিলির পরিবার। কিন্তু বিয়ের জন্য পুলিনকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন মিলি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিন সরকার পরিকল্পিতভাবে বাসাটি ভাড়া নিয়ে মিলিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে মিলির লাশ ঝুলিয়ে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
বিমানবন্দর থানার ওসি এসএম মাহবুবুল ইসলাম জানান, আমাদের বদলি করা হয়েছে। কি করনে তা জানি না।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply