নিজস্ব প্রতিবেদক : জাল দালিল করে না দেয়ায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা চালিয়ে স্টাফদের মারধর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন- সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজন, গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফা ও সরকারি গৌরনদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদ ওরফে সুমন মোল্লা।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের কারণে খারাপ প্রভাব পড়ছে। আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি সভা ডাকা হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দলের ওই তিন নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে জাল দালিল করে না দেয়ায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজন, গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফা ও সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদ ওরফে সুমন মোল্লার নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জন হামলা চালায়। এ সময় তারা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাওছার হোসেনসহ অফিসের পাঁচ কর্মচারীকে পিটিয়ে আহত করে। একই সঙ্গে অফিসের কম্পিউটার ও দুটি চেয়ার ভেঙে ফেলে এবং মূল্যবান দলিলপত্র তছনছ করে তারা। হামলাকারীরা দলিল লেখক কাওছার হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে অফিস থেকে বের করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। তারা তার পরনের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
এ ঘটনায় রোববার রাতে সাব-রেজিস্ট্রার মুবাশ্বেরা সিদ্দিকা বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় সুমন মোল্লা, সাখাওয়াত হোসেন সুজন, ও মিলন খলিফার নামোল্লেখসহ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবে ঘটনার পর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply