শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৩৫

শিরোনাম :
স্কুল বন্ধে বেড়াতে যাওয়ার আবদার, পরে মিললো শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ নেতার দখল থেকে উদ্ধার জমিতে খেলার মাঠ হবে: বিসিসি প্রশাসক শিরীন রক্ত পরীক্ষার সুযোগ নেই সরকারি হাসপাতালে শাপলার সৌন্দর্য ঘিরে সাতলায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সম্ভাবনা সাইবার মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম জুলাই সনদ উপেক্ষা করে দলীয়করণ জনগণ মেনে নেবে না: মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার হলেন তিন ববি শিক্ষক প্রাকৃতিক খাদ্য রং তৈরিতে সফল বরিশালের নারী উদ্যোক্তা হুমকির মুখে পানপট্টির মিনি কুয়াকাটা প্রয়াত সাংবাদিক মিরাজের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত সহকর্মীরা
বালুমহাল নিয়ে বানোয়াট সংবাদে সরগরম বানারীপাড়া, জেলা প্রশাসনের ক্ষোভ! 

বালুমহাল নিয়ে বানোয়াট সংবাদে সরগরম বানারীপাড়া, জেলা প্রশাসনের ক্ষোভ! 

dynamic-sidebar

শফিক মুন্সি::

স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার নিয়ে সরগরম বরিশালের বানারীপাড়া। কথিত সাংবাদিক দ্বারা সংরক্ষিত মহিলা আসন এর সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরাকে যুক্ত করে অসত্য সংবাদ প্রকাশে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। সূত্রমতে, প্রশাসনের মুক্ত দরপত্র আহবানের মাধ্যমে বানারীপাড়া উপজেলার ছয়টি বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা দেওয়া হয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে। এই ইজারা প্রক্রিয়া যেন সর্বোচ্চ আইনানুসারে এবং স্বচ্ছ ভাবে হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রনালয়কে ডিও লেটার দিয়েছিলো সাংসদ রুবিনা মিরা। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী আগে থেকে ওত পেতে থাকলেও স্বচ্ছ এবং আইনানুসারে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কাজ বাগিয়ে নিতে পারে নি তারা। ফলশ্রুতিতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সাংবাদিক দিয়ে রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করিয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয়রা। রাগের বর্শবর্তী হয়ে ওই ডিও লেটার নিয়ে মিথ্যাচার করছে অভিযুক্ত গোষ্ঠীরা এমনটাই তাদের ধারণা।

বরিশাল জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার আটটি বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে গত ০৮ জুলাই হাইকোর্ট থেকে একটি সিদ্ধান্ত আসে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা আইন অনুযায়ী বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি কর্তৃক সরেজমিনে করা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে দুইটি বালু মহাল বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাদবাকি ছয়টি বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। উক্ত কাজগুলো স্থানীয় কয়েকটি লোভী গোষ্ঠী গুছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে চাইলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় রুবিনা আক্তার মিরা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইস্যু হওয়া নোটিশ মোতাবেক বানারীপাড়ার বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত কার্যক্রম যেন আইনানুসারে হয় এই প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন সংরক্ষিত আসনের এই সাংসদ। তাঁর ডিওর প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতায় টেন্ডার সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের এডিসি শহিদুল ইসলাম জানান, ” রিট মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় এ বছর বানারীপাড়ার বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়৷ বালু মহাল সংক্রান্ত সকল আইন ও বিধিমালা মেনে বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শ মোতাবেক ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়৷ ” তিনি এসময় টেন্ডার ও কাজ বন্টন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ ছিল না বলে উল্লেখ করেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ” আমি বালু উত্তোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন সিদ্ধান্ত দেই নি। জেলা প্রশাসন থেকে উত্তোলন কাজের টেন্ডার যেন দূর্নীতিগ্রস্থ না হয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছভাবে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকে কাজ গুঁছ করতে দেই নি, বলেছি ওপেন টেন্ডার হবে” । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে অনুসরণ করেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ” অন্যায়ভাবে টেন্ডার বাগিয়ে যারা পেশি শক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে অবৈধ অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখেছিলো আমি তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। নদীর স্বাভাবিক নব্যতা রক্ষার্থে কিছু গুঁছ পার্টির স্বপ্ন ভেঙে দেবার কারণেই আমি স্থানীয় অপরাজনীতির শিকার হচ্ছি “।

অন্যদিকে বিভ্রান্তিকর সংবাদে আরেক অভিযুক্ত বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান হাওলাদার জানান, ” কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন মানুষ নিজেদের আখের গোঁছাতে না পেরে এখন অসৎ সাংবাদিকদের সাহায্য নিচ্ছে। আমি বালু উত্তোলনের কোন কার্যক্রমে যাই না এবং সে কার্যক্রমে থাকার কোনো এখতিয়ার আমার নেই। সর্বোচ্চ দরদাতাই তার কাজ চালাচ্ছে “। স্থানীয় ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরার কাছে চলে যাবার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, ” মাত্র কদিন আগেও স্থানীয় ছাত্রলীগ রুবিনা আপার আর্থিক সহায়তায় একটি কাঠের ব্রিজ মেরামত করেছে। যার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষা পাবে সত্যিকারের ছাত্রলীগ তো তাঁর কাছেই যাবে “।
এদিকে সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন সংবাদ প্রকাশকারী এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে নানা অভিযোগ। সেই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে বন্ধুর মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ও ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর মতো ফৌজদারি অভিযোগ আছে স্থানীয় থানায়। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দায়ে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরার ঘনিষ্ঠজনেরা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net