বরিশালে র্যাবের অভিযানের মুখে হোটেল-রেস্তোরা ও বেকারী মালিকরা ধর্মঘট পালন করেছে। র্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থদন্ডের অভিযোগে গতকাল বুধবার সন্ধা থেকে পরবর্তি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট শুরু করেছে বরিশাল নগরীর সকল হোটেল-রেস্তোরা ও মিষ্টির দোকানে। বরিশাল হোটেল রেস্তেরা ও সুইটমিট মালিক সমিতির সভাপতি বিশ্বজিত ঘোষ বিশু জানান, গত দুইদিনে নগরীর ১০টি রেস্তোরায় র্যাব-৮ এর ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে অসহনিয় জরিমানা করেছে। তিনি বলেন, আদালত পরিচালনাকালে মালিক সমিতির কোন প্রতিনিধি রাখা হয়না। এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়না। মোটা টাকার জরিমানা করে তাৎক্ষনিকভাবে তা পরিশোধ করতে বলায় হয়। তা না পারলে কারাদন্ড দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্বজিত ঘোষ বিশু বলেন, তারা ভ্রাম্যমান আদালতের বিপক্ষে নন। তবে আদালত পরিচালনাকালে তাদের প্রতিনিধি সঙ্গে রাখা সহ একজন খাদ্য বিশেষজ্ঞ রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন। গতকাল সন্ধায় বরিশাল হোটেল রেস্তোরা ও সুইটমিট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে গিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন। এরপর পরই বন্ধ হতে থাকে নগরীর হোটেল-রেস্তোরাগুলো। সভাপতি বিশ্বজিত ঘোষ বিশু জানান, আজ বৃহস্পতিবার তারা মুখে কালোকাপর বেঁধে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবেন। ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে কি-না তা রাত ৮টায় অনুষ্ঠেয় সভায় নির্ধারন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স সমকালকে বলেন, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়গণষ্টিক ওনার্স অ্যাসোশিয়েসন নেতৃবৃন্দ তার কাছে গিয়ে কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, বরিশালের অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়গণষ্টিক সেন্টারের শতভাগ কাগজপত্র নেই। জনস্বার্থে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরায় পরিচালিত অভিযান প্রসঙ্গে মেজর সোহেল বলেন, কাউকে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং আইনে যা আছে তা অনুসরন করেই জেল অথবা জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এবং লাইসেন্স ছাড়া হোটেল-রেস্তোরা চালানো বেআইনী। নগরীর রয়েল রেস্তোরা হোটেলের ব্যবস্থাপক সৈয়দ রেজাউল কবির জানায়, হোটেল মারিকদের জরুরী সভায় অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন ভ্রাম্মমান আদালতের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন বাধা নিষেধ নেই তবে হোটেল কতৃপক্ষের কথাবলার অধীকার থাকতে হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply