বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১১

শিরোনাম :
তালতলীতে নামেই মাত্র হাসপাতাল,বরগুনা সিভিল সার্জনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

তালতলীতে নামেই মাত্র হাসপাতাল,বরগুনা সিভিল সার্জনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

dynamic-sidebar

হাসান মৃধা,আমতলী প্রতিনিধি :বরগুনার তালতলীতে শুধু নামে মাত্রই হাসপাতাল আছে। নেই জনবল, ঔষধপত্র ও আউটডোর ইনডোর চালু। নেই
কোন এ্যাম্বুলেন্সও। অথচ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার পর বরগুনা সিভিল সার্জনের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসছে তালতলীবাসী।

 

জানাগেছে, তালতলী উপজেলায় আড়াই লক্ষ মানুষের বসবাস। এখানে নামেই আছে তালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। কাজের বেলায় কিছুই নেই। পাঁচ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সদ্য নিয়োগকৃতসহ তিন জন চিকিৎসক ও তিন জন নার্স থাকলেও নেই অন্যান্য জনবল। ঔষধপত্র ও আউটডোর ইনডোর চালু নেই।

 

২০ শয্যা তো দুরের কথা ভর্তি করা হয়নি কোন রোগী। মূমুর্ষ কোন রোগী আসলে চিকিৎসার জন্য দুরে কোথাও নেয়ার জন্য নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে সমস্যায় জর্জরিত তালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। এত সমস্যার মধ্যেও মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস সম্পর্কে বরগুনা জেলার সমস্যা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হুমায়ুন খান শাহীন বলেন, এ জেলায় কোন সমস্যা
নেই।

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তালতলী-আমতলী আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারনে বরগুনা একটি উপকূলীয় জেলা হিসেবে তিনি অবগত আছেন। তাই সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বারবার নৌ এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার পরপরই সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে বরগুনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হুমায়ুন খান শাহীনের বিরুদ্ধে।

 

করোনাভাইরাসের মত মহামারীর সময়ও তালতলী হাসপাতালের বহুমুখী সমস্যাসহ এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর কোন খোজ রাখেননি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হুমায়ুন খান শাহীন। বড়বগী ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লিটু বলেন, তালতলী উপজেলায় আড়াই লক্ষ লোকের বসবাস। এখানে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখনো এটি আমতলী উপজেলা হাসপাতালের নিয়ন্ত্রনাধীন।

 

আউটডোর, ইনডোর চালু নেই। নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স ও ঔষধপত্র। এ জেলায় স্বাস্থ্য সেক্টরে এত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বরগুনা সিভিল সার্জন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আমি তার এ মিথ্যা তথ্যের তীব্র নিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। তালতলী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান টুকু মুঠোফোনে জানান, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। বর্তমানে করোনাভাইরাসের মত মহামারীর সময়ও এই হাসপাতালে একটি এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা থাকার পরেও সিভিল সার্জন সেটা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেননি।

 

এ জন্য আমরা তালতলী উপজেলার সর্বস্তরের জনগন সিভিল সার্জনের এহেন দায়িত্বহীন বক্তব্যের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করছি। তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবী উল কবির জোমাদ্দার মুঠোফোনে বলেন, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি বহুমুখী নানা সমস্যায় জর্জরিত এটা সঠিক। তারপরেও সিভিল সার্জনের উচিৎ ছিল তালতলীর স্বাস্থ্যসেবার সঠিক তথ্য জেনে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা। তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় অবশ্যই একটি এ্যাম্বুলেন্স দরকার যা তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেননি।
অবশ্যই এটা আমাদের জন্য কষ্টের ক্ষোভের বিষয়।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net