বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৩২

শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে ধর্ষনের মূল্য ৫ হাজার টাকা !

বরিশাল নগরীতে ধর্ষনের মূল্য ৫ হাজার টাকা !

dynamic-sidebar

নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড পশ্চিম হরিনাফুলিয়ার রজ্জব আলী হাজী বাড়িতে গৃহবধূ সুমির গর্ভের সন্তানের পিতার দাবীদার স্বামীসহ চাচাতো দেবর হওয়ায় এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এঘটনায় প্রশাসনের নিক্রিয়তার সুযোগে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর ঐ এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল। ঘটনার শিকার দরিদ্র গৃহবধূ সুমি স্বামী সংসার সব হারিয়ে সন্ত্রাসীর হামলায় মারাক্তক জখম গর্ভস্থ ৫ মাসের শিশুকে নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড পশ্চিম হরিনাফুলিয়ার রজ্জব হাজীর স্বজন নুরুল হকের পুত্র দিন মজুর রুবেলের সাথে বিয়ে হয় ভোলা জেলাধীন চরফ্যাশন উপজেলার দরিদ্র কৃষক আলী হোসেনের মেয়ে সুমীর। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশি চাচাতো দেবর নুরুল ইসলামের পুত্র সাইদুল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশলে ভাবি সুমিকে উক্তাক্ত করতো এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতো। এমন কি দেবরের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শারিরিক ভাবেও সুমিকে নির্যাতন করতো দেবর সাইদুল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় স্থানীয় ভাবে শালিস মিমাংশা হলেও দমে যাননি সাইদুল। ঘটনা চক্রে প্রায় ৬ মাস পূর্বে বাড়ির পাশ্ববর্তী এক স্বজনের মৃত্যু হলে সেই বাড়িতে রান্না করতে যায় সুমি। এসময় ঐঘরে কেউ না থাকার সুযোগে পিছন থেকে সুমিকে জাপটে ধরে সাইদুল এবং সুমির পরিহিত ওড়না দিয়ে হাত মুখ বেধে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সুমিকে ধর্ষন করে বলে এই প্রতিবেদকে জানান ধর্ষিতা সুমি। কিন্তু স্বামী এবং সামাজিকতার কথা চিন্তা করে বিষয়টি গোপন রাখেন সুমি। এদিকে সুমি গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে আবারও তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় সাইদুল এবং গর্ভের সন্তান তার বলে দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে বিষয়টি স্বামীকে জানালে স্বামী রুবেল সব কিছু মেনে নিয়ে স্ত্রী সুমিকে নিয়ে সংসার করতে থাকলে বাধ সাধে সাইদুল। এলাকায় প্রচার করে বেড়ায় যে সুমির গর্ভের সন্তান আমার। এতে করে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন রুবেল-সুমি দম্পতি। গত ২৮ তারিখ এ নিয়ে এলাকায় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক বসে এবং সেখানে অভিযুক্ত সাইফুলের মা হনুফা, খালা মরিয়ম এবং ভাই খায়রুল সুমিকে নষ্টা আখ্যায়িত করে নির্যাতন করে এবং ঘর থেকে রাস্তায় বের করে দেয়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনা স্থলে গিয়ে আহত সুমিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন মামুনের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু র্দীঘ ৮ ঘন্টা থানা কম্পাউন্ডে অভুক্ত অবস্থায় থেকে রাত ৯ টায় দেখাপান ওসির। তিনি ঘটনা শুনে ভিকটিমকে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দিলে ভিকটিম অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক থানায় অবস্থানরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামানের সাথে সংবাদকমীরা যোগাযোগ করলে তিনি ভিকটিমকে সর্বাত্তক সহযোগীতা প্রেরনের পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে মামলা গ্রহনের আশ্বাস দেন। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পান এস আই সহিদুল ইসলাম। তিনি ঘটনার পরের দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের সাথে কথা বলেন এবং থানায় হাজির হয়ে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন। এদিকে পুলিশ ঘটনা স্থলে যাওয়ার পর পরই মাঠে নামে ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি চক্র । তারা ভিকটিমকে কৌশলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যেতে বাধা দেয় এবং গত ২ অক্টবর সোমবার কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদের নিজ বাড়িতে বসে মাত্র ৫ হাজার টাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমির এক স্বজন জানান, সুমিকে আমরা ধার দেনা করে গোপনে চিকিৎসা করাচ্ছি। ডাক্তার বলেছে, সুমির পেটে লাথি মারায় গর্ভের সন্তানের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। ওকে উন্নত চিকিৎসা করানো জরুরি প্রয়োজন যা আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন,গরীব হয়েছি বিধায় আমাদের ইজ্জতের মূল্য মাত্র ৫ হাজার টাকা ? পাঠক সুমির নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে…চোখ রাখুন আগামীতে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net