দুর্নীতির দুই মামলায় সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ খায়রুল আলমকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। ৪ অক্টোবর বুধবার জেলা দায়রাজজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন বিচারাধীন আদালত খায়রুলের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে হাজতে পাঠিয়ে দেন।একই সাথে ৭৬ বছরের বৃদ্ধ হওয়ায় সাবেক জেলা হিসাব রক্ষক হাবিবুর রহমানকে মানবিক কারনে জামিন দেন।হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তারা আত্নসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে আদালত একজনের জামিন মঞ্জুর করে অপরজনকে জেল হাজতে যাওয়ার আদেশ দেন।আদালত সূত্র জানায়, গতবছর ২১ মার্চ কোতয়ালী মডেল থানায় ওই দুইজন সহ ঠিকাদার ও ওষুধ সাপ্লাইয়ার্স সাইদুর রহমান খান, সাবেক সিভিল সার্জন আফতাব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস অডিটর রুহুল আমিন চৌধুরী, একই কার্যালয়ের ডিভিশনাল সুপার কাজী মিজানুর রহমান মিলিয়ে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এবং এদেরমধ্যে শুধুমাত্র আফতাব বাদে বাকি ৫ জনসহ সদর হাসপাতালের সাবেক ডেন্টাল সার্জন সৈয়দ মাহবুব হাসান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক মেডিকেল অফিসার হাবিবুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বরিশাল নগরীর বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার আমিনুর রহমান চৌধুরীকে অভিযুক্ত দেখিয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম। ৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা ১৯৯৬ সালের ১১ ডিসেম্বর হতে ১৯৯৮ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্তব্যরত থাকা কালীন ইউডিসিএল ওষুধ সামগ্রী কেনার জন্য দরপত্র আহবান করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ কেনার বিল দেখিয়ে পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ৪শ ৯৯ টাকা ৬০ পয়সা এবং ভ্যাট ফাকি দিয়ে আরো ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ ৯৭ টাকা আত্নসাত করেন। ৯ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলেন তারা একইভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে প্লাস্টিক বালতি ও অপারেশন লাইট ক্রয়ের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪ শ ৪৫ টাকা এবং ভ্যাটের ২ লাখ ১০ হাজার ১ শ ৫ টাকা মোট ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫ শ ৫০ টাকা আত্নসাত করেন। এভাবে মামলা দুটি দায়েরের পর বাদী ও দুদকের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ৬ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল এবং ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০ মার্চ চার্জশীট দাখিল করেন।অভিযোগের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় দুটি মামলা হতেই চার্জশীটে রুহুল আমিন ও কাজী মিজানুর রহমানকে এবং ২য় মামলায় সৈয়দ মাহবুবকে অব্যাহতির সুপারিশ জানানো হয়।আদালত সুপারিশ মঞ্জুর করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩১ জুলাই একটি এবং ১০ আগস্ট অপর মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। দুটি মামলাই খায়রুল ও হাবিবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তারা দুজন গত ২৩ আগস্ট উচ্চ আদালতে আত্নসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণ দেবনাথ গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ উভয় মামলায় দুজনকেই ৬ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে আদেশ দেন।হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তারা দুজন ওই আদালতে দুই মামলায় হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত হাবিবুরকে জামিন দিয়ে খায়রুলের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply