নিজস্ব প্রতিবেদক :বরিশাল নগরীর উত্তর জনপদে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুবিশাল কার্যালয়। চারদিকে প্রাচীর ঘেরা এই কার্যালয়ের গেটে সকাল থেকেই গ্যালন হাতে মানুষের জটলা চোখে পড়ে।
এমন দৃশ্য দেখে জানার আগ্রহ নিয়ে ক্যামেরা হাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের বরিশালের ক্যামেরা পার্সন কামাল হাওলাদার। ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকেই দেখতে পান গ্যালন ভর্তি লিকুইড মদ বিক্রির চিত্র।
এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে মদ বিক্রি কার্যক্রমের ভিডিওধারণ শুরু করেন কামাল। ঠিক সেই মুহুর্তে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়ের গেটে থাকা নিরাপত্তা কর্মী এবং অফিস স্টাফরা ধাওয়া করে ।
এমনকি তার ক্যামেরা ভেঙে ফেলাসহ মারধরও করা হয়েছে ক্যামেরা পার্সন কামালকে। এ খবর পেয়ে নগরীর কাউনিয়া থানাধিন ভিটিখানা সড়কে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশালের কর্মরত অন্যান্য সাংবাদিকরা। এমনকি খবর পেয়ে সেখানে আসেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত এবং র্যাবের টিম।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দেশে লকডাউন চলছে। তার মধ্যেই বরিশাল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে তরল মদ। প্রতি লিটার মদ ৯০ টাকায় বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন পাঁচশত টাকায়।
মদ কিনতে আসা ব্যক্তিরা বলেন, ‘আমারা এখান থেকে নিয়মিত মদ কিনি। এজন্য মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় থেকে আমাদের কাছ থেকে অগ্রিম ৭ লাখ টাকা নিয়েছে। সেই টাকার মদ নিতেই সকাল থেকে কার্যালয়ে ভির করেন বরিশাল নগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মাদক ব্যবসায়ীরা।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের একটি বিশ্বস্থ এবং দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, একান থেকে শুধুমাত্র মাদক বিক্রিই হয় না, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের এই কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই রয়েছে কেরু কোম্পানীর মদের গোডাউন। যেখান থেকে ডিলারদের মদ সরবরাহ দেয়া হয়। আর এই দুর্নীতি ধামা চাপা দিতেই ক্যামেরা পার্সনের উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে খবর পেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বাধিন ভ্রাম্যমান আদালতের টিম সেখানে হাজির হন। তারা সেখান থেকে উদ্ধার করেন বিপুল পরিমান মদ। যা পরবর্তীতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় চত্ত্বরেই মাঠিতে ঢেলে নষ্ট করা হয়েছে।
সেই সাথে ভ্রাম্যমান আদালত সিলগালা করে দিয়েছে মদের গোডাউনটিকে। এরপর কার্যালয়ের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ করে অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমানকে সাথে করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি সরকারি ছুটির মধ্যে কেন মাদ বিক্রি হচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম রাখা হচ্ছে এমন প্রশ্নেরও কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষটি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীও।
অপরদিকে বাংলাভিশনের বরিশাল জেলা প্রতিনিধি শাহীন হাসান জানিয়েছেন, ‘তার ক্যামেরা পার্সনের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বাধা দেয়ার পাশাপাশি তার উপর হামলা এবং অন্যায়ভাবে ক্যামেরাও ভাংচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ক্যামেরাপার্সনের উপর হামলা ও ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, টেলিভিশন মিডিয়া এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহীন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশান্ত ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা, বরিশাল নিউজ এডির্টস কাউন্সিলের সভাপতি আরিফিন তুষার ও সাধারণ সম্পাদক রিপন হাওলাদারসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply