আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী পৌর শহরের চারটি পরিবারের বসত বাড়ী গত তিন দিন ধরে বালুর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ কারনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এই পরিবারগুলো। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার রাত আট টার দিকে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আট জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে আমতলী পৌরশহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন স্লুইজগেট এলাকার পৌরসভার গরুর হাট সংলগ্ন সরকারী জমিতে আমতলী পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর মাকসুদা বেগমের স্বামী ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ফোরকান গাজী বালুর ব্যবসা করে আসছে। গতকাল দুপুরে পূর্বে বৃষ্টির মধ্যে সেখানে বালু উত্তোলন করতে গেলে মামুন মৃধা ও অন্যান্য পরিবারের লোকজন ফোরকান গাজীকে নিষেধ করে।
তাদের নিষেধ অমান্য করে সেখানে বালু উত্তোলন করে ফোরকান গাজী। বালুর পানিতে মামুন মৃধা, মৌসুমী, কালাম ও আলেয়া বেগমের বসত ঘর হাটু পরিমান তলিয়ে যায়। এ নিয়ে ররিবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে ফোরকান গাজী, সজল গাজী ও তাদের সাথে থাকা লোকজন মামুন মৃধা (৪০) উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে
পিটিয়ে আহত করে। এসময় তার ছোট ভাই তৌহিদ মৃধা (২৫) মামুনকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাকেও রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। তাদের ডাকচিৎকারে ঘরের মধ্যে থাকা ও পার্শ্ববতী প্রতিবেশী রাসেল মীরের স্ত্রী মৌসুমী (৩০) এগিয়ে এলে তাকেও মারধোর করেন ফোরকান গাজীর লোকজন।
স্থানীয়রা ওই সময়ই তৌহিদসহ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আমতলী হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত তৌহিদ মৃধার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বসতঘর পানিতে তলিয়ে থাকা ভূক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন, ফোরকান গাজীর বালুর পানিতে আজ দুই দিন ধরে আমার বসতঘর তলিয়ে আছে। আমরা চারটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আহত মামুন মৃধা বলেন, সরকারী জমিতে পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলরের স্বামী ফোরকান গাজী বালুর ব্যবসা করে। গতকাল দুপুরের পরে সেই জমিতে বালু উত্তোলন করতে গেলে আমি নিষেধ করি। আমার নিষেধ অমান্য করে বালি উত্তোলন করলে সেই বালির পানিতে আমার বসত ঘরসহ প্রতিবেশীর চারটি বসত ঘর হাটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এনিয়ে রবিবার রাতে তাদের সাথে আমার ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমাকে ও প্রতিবেশী মৌসুমীকে পিটিয়ে ও আমার ছোট ভাই তৌহিদকে রড দিয়ে বাড়ি মেরে মাথা ফাঁটিয়ে আহত করেছে ফোরকান গাজী ও তার সাথে থাকা লোকজন। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে ফোরকান গাজী মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, মামুন মৃধার লোকজন আমাকে, আমার স্ত্রী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদা বেগম (৪৮), ছেলে সজল (২৫), ভাগনিা হাফেজ (২৮) কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাত্ব জখম করেছে। আমার ছেলে সজল ও ভাগিনা হাফেজকে আমতলী হাসপাতালে আমি ও আমার স্ত্রী ওয়ার্ড কাউন্সিলর বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি।
এ ব্যপারে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম হাওলাদার বলেন, ঘটনা শুনে স্পটে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখোনো এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply