শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৪৭

শিরোনাম :
শেবাচিমের করোনা যোদ্ধা এসআই নাজমুলকে পুলিশ কমিশনারের আর্থিক সম্মাননা

শেবাচিমের করোনা যোদ্ধা এসআই নাজমুলকে পুলিশ কমিশনারের আর্থিক সম্মাননা

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বৈশ্বিক মহামারী করোনা ক্রান্তিলগ্নে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর পক্ষ থেকে মেডিকেলের করানোর সম্মুখ যোদ্ধা এসআই নাজমুল হুদাকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। সোমবার (৪ মে) দুপুরে পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান’র নির্দেশক্রমে বিএমপি সহকারি পুলিশ কমিশনার আঃ হালিম নিকট থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করে এসআই নাজমুল।

এই পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে করোনা মহামারীতে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে করোনা উপসর্গ রোগীদের ভর্তি থেকে শুরু করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু পর্যন্ত সেবা দিতে প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন তাদের নিকটে।

 

যেখানে সবাই ‍এ রোগ থেকে দূরে থাকছে সেখানে ‍এসআই নাজমুল স্বেচ্ছায় এ কাজের জন্য নিজেকে সমর্পণ করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট এবং পিসিআর ল্যাব চালু হওয়া থেকে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন এ পুলিশ সদস্য।

 

শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট-এ করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যাওয়ার পর বেশিরভাগ সময় রোগীর স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায় না। করোনার ভয়ে স্বজনরা যেখানে দূরে সরে যায় ঠিক ওই মুহূর্তে ভয় কে উপেক্ষা করে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে লাশ বাড়িতে পাঠানো পর্যন্ত রোগীদের সাথে থাকে এসআই নাজমুল।

 

এভাবে গত ১৮ এপ্রিল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে লিটন নামে এক বেদে যুবকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে উপজেলায়। লিটন এর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ভয়ে আত্মীয়স্বজন তাকে রেখে চলে যায়। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি ‍আমাকে জানানোর পর তাৎক্ষণিক কোতোয়ালি থানা পুলিশসহ উরধতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। আত্মীয় স্বজনদের খবর দেওয়া হলেও তারা না আসায় কোতোয়ালি টিম ও মাস্টার অফিসের লোকজন সঙ্গে নিয়ে করোনা ইউনিট থেকে যুবকের লাশ কফিন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করে।

 

তাছাড়া কাউনিয়া এলাকার এক নারী উপসর্গ নিয়ে করোনা ইউনিটে মারা যাওয়ার পর লাশর স্বজনরা ভয়ে পালিয়ে যায়। সেখানেও আমি লাশের ব্যবস্থা করে পরিবারের লোকজন খবর দিয়ে তাদের নিকট প্রেরণ করি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপজেলার পটুয়া গ্রামের জুয়েল মৃধা নামে এক ব্যবসায়ী মুঠোফোনে জানান, তিনি গত তিনদিন ধরে বরিশাল হাসপাতালের সামনে হোটেল বায়জিদে লকডাউন অবস্থায় আছেন। ৫ দিন পূর্বে তার স্ত্রী ইভা বেগমের করোনা উপসর্গ নিয়ে নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে তাৎক্ষণিক করোনা ইউনিট-এ ভর্তি করে। ভর্তির পর ইভার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর জুয়েল মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

 

নিজের করোনা টেস্ট করানোর জন্য দুই তিন দিন ধরে চেষ্টা করলেও তা পারেনি। পরে বিষয়টি নাজমুল জানতে পেরে মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটির নিয়ে নিয়ে পরীক্ষা করিয়ে দেয়।

 

এ ব্যাপারে গার্ড পুলিশের এসআই নাজমুল হুদা বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ক্রান্তিলগ্নে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যারের এর পক্ষ থেকে আমাকে কে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net