বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১০

শিরোনাম :
ভোলার ফেরিঘাটে মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি, সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ

ভোলার ফেরিঘাটে মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি, সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ

dynamic-sidebar

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলা॥ ভোলার ইলিশা ও ভেদুরিয়া ফেরিঘাটে গাড়ি পারাপারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজি ও বাড়তি ভাড়া আদায় করছে ফেরি দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনগুলো থেকে। তবে অন্য কেউ নয় বিআইডব্লিউটিসি এর কর্মকর্তারাই সরাসরি জড়িত এই চাঁদাবাজির সাথে। এমনই অভিযোগ ফেরি দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহন চালকদের।

সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্তু এমনই চিত্র দেখা গেছে ভোলার ইলিশা ও ভেদুরিয়া ফেরিঘাটে।

ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়তি ভাড়া দিয়ে পারাপার হতে হয় প্রতিনিয়ত। তবে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোন রশিদ দিচ্ছেন না বিআইডব্লিউটিসি এর কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগী চালকরা জানান, বাড়তি ভাড়া না দিলে ঘাটে আটকিয়ে থাকতে হয় দিনের পরদিন।

ইলিশা ঘাটে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পিক-আপ চালক আনোয়ার জানান, তার পিক-আপ গাড়িটি পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসি অফিসে গিয়ে টিকেট কাটতে গেলে তার কাছ থেকে দুই হাজার দুইশো টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ তাকে দেওয়া টিকেটের গায়ে সরকারিভাবে নির্ধারণ করা ভাড়ার পরিমাণ এক হাজার ছয়শো টাকা লেখা রয়েছে।

শুক্কুর আলী নামে আরেক গাড়ি চালক জানান, তার কাভার্ড ভ্যানের টিকেটের জন্য বিআইডব্লিউটিসি অফিসে গেলে তার কাছ থেকে দুই হাজার ছয়শো টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ তাকে দেওয়া হয়েছে এক হাজার সাতশো টাকার টিকেট।

ভেদুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল পটুয়াখালী যাওয়া ট্রাক চালক রেজাউল আলম বলেন ভেদুরিয়া-লাহার হাট ফেরি পারাপারের জন্য ভেদুরিয়া বিআইডব্লিউটিসি এর অফিসে টিকেট কাটতে গেলে আমার কাছ থেকে দুই হাজার চারশো ৭০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাকে দেওয়া টিকেটের গায়ে লেখা রয়েছে এক হাজার নয়শো ৩০ টাকা।

আবু মুছা নামে আরেক চালকের তার কাছ থেকেও এক হাজার সাতশো টাকা নেওয়া হয়েছে।অথচ টিকেট দেওয়া হয়েছে এক হাজার চারশো টাকার।শুধু শুক্কুরআলী আনোয়ার আবু মুছা ও রেজাউলই নয়। বিআইডব্লিউটিসি বাড়তি ভাড়ার শিকার সকল যানবাহন চালকরা।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইলিশা বিআইডব্লিউটিসি এর এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় প্রতিদিন বাড়তি ভাড়ার টাকা উঠে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্তু। যার সপ্তাহিক হিসাবে আসে এক লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মতো। আর মাসিক হিসাব আসে প্রায় ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজারের মতো।ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতিদিন রাতে ওই বাড়তি টাকার হিসাব শেষে তা ব্যবস্থাপক এমরানসহ সকল কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন।

 

 

অভিযোগ রয়েছে ইলিশা ঘাটের পল্টন সহকারী হারুন রশীদ বোনাসের নামেও প্রতি গাড়ি থেকে একশত টাকা করে নিয়ে থাকেন।ইলিশ ও ভেদুরিয়া ঘাটের সূত্রমতে এই দুই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ছোট বড় ৮০টি যানবাহন চলাচল করে। আর এসব যানবাহন থেকে গড়ে উঠে আসা চাঁদার পরিমাণ দৈনিক দাঁড়ায় ৪০ হাজার টাকা। যার সাপ্তাহিক হিসাব দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা। মাসিক হিসাবে আসে ৮৪ লাখ টাকা আর বাৎসরিক দশ কোটি ৮ লাখ টাকা।

 

 

ভেদুরিয়া ঘাটের ব্যবসায়ি নিরব জানান, বিআইডব্লিউটিসি অফিসের নজরুল অতিরিক্ত টাকা আলাদা ক্যাশে রাখেন। আর রাত হলেই ব্যবস্থাপক আলম সিকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে কোন চালক বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গাড়ি দিনের পর দিন আটকিয়ে রাখা হয়।তবে দুর্ভোগ লাগবে ঈদের আগেই ইলিশা ও ভেদুরিয়া ঘাটটি চাঁদাবাজি মুক্ত করার দাবি চালক ও ব্যবসায়িদের।

 

 

এবিষয়ে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস ব্যবস্থাপক কে এম এমরান হোসেন ও ভেদুরিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আলম সিকদার চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করতে এই প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।ভেদুরিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি এর অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি চাঁদাবাজি সবাই ই করে। আমরা করলে সমস্যা কি। চাঁদার টাকা তো সব জায়গায় ই যায়।

 

 

চাঁদাবাজির বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় বিআইডব্লিউটিসি এর (এজিএম) এসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সেখানকার ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে হবে। ব্যবস্থাপকরাই তো সরাসরি জড়িত এই চাঁদাবাজির সাথে। এমন প্রশ্নোত্তরে তিনি জানান, যদি কোন গাড়ি চালক লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net