শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:০৩

শিরোনাম :
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘আম্ফান’, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘আম্ফান’, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার

dynamic-sidebar

অনলাইন ডেস্কঃ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘আম্ফান’। এখন ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। এটি ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি বাড়াচ্ছে।রবিবার (১৭ মে) সারাদিনে আম্ফান ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মতো উত্তর দিকে এগিয়েছে। প্রথমে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোলেও এখন উত্তর দিকে এগোচ্ছে। এই গতি ও শক্তি নিয়ে এগোতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি ভারত বা বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলতে চাইছে না আবহাওয়া অফিস। এদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও দেশের চার সমুদ্রবন্দরে আগের মতোই চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে নদীবন্দরগুলোর জন্য এক নম্বর সর্তকতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঝড়টি এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে অনেক দূরে থাকায় আমাদের সাগরে এর প্রভাব এখনও পড়েনি। এ কারণে সমুদ্রবন্দরের সিগনাল একই রাখা হয়েছে। তবে আগামীকাল সোমবার এই সিগনাল বাড়তে পারে।’ তিনি জানান, ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে ঝড়টি। সেই হিসাবে আজ রাতে এটি খুব বেশি দূর এগোবে না।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি রবিবার (১৭ মে) রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে, যার বেলা ৩টায় অবস্থান ছিল ১ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার দূরে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এখন এক হাজার ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে, বিকাল তিনটায় কক্সবাজার থেকে এক হাজার ২৬০ কিলোমিটার দূরে ছিল। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এখন আছে এক হাজার ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এখন এক হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থানকরছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঝড়টি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকার সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।’

ড. মল্লিক বলেন, ‘এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।’

আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়— খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-

পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সর্তকতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, আম্ফানের প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net