সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:০০

শিরোনাম :
দুর্গাসাগর থেকে হরিণ নিখোঁজের এক বছর পর কেয়ারটেকার-পাহারাদার গ্রেপ্তার বরিশালে ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩ পটুয়াখালীতে জেলের জালে ধরা পড়ল ২৬ কেজির ভোল মাছ পদ্মাসেতুর সুফল মিললেও শিল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই বরিশালে ভোলা-বরিশাল সেতু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ৩ নেতাকে মারধর! বিক্ষোভের মুখে এবার বরিশালের সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহার লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জবাসী বানারীপাড়ায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০
বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চে নামমাত্র বিলাসবহুল ও আধুনিকতা!

বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চে নামমাত্র বিলাসবহুল ও আধুনিকতা!

dynamic-sidebar

বিলাসবহুল আর আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে
নিত্যনতুন নামছে একের পর এক লঞ্চ। পাশাপাশি কদর কমে যাওয়ায় এখন পুরনো
লঞ্চগুলোকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। যেমনটা করা হয়েছে সুরভী-৭ ও সুন্দরবন-৭
কে। যদিও আধুনিকায়ন শেষে সুরভী-৭ এর নাম ঠিক থাকলেও সুন্দরবন-৭ এর নামকরণ
করা হয়েছে সুন্দরবন-১১।আর ঢাকা-বরিশাল রুটে চলমান ২৩টি লঞ্চের অর্ধেকের বেশি ১৩টিই নামমাত্র
বিলাসবহুল ও আধুনিক।বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি চলাচলরত
সুন্দরবন-১০, ১১; সুরভী- ৭, ৮, ৯; কীর্তনখোলা-২; পারাবাত-১২;
অ্যাডভেঞ্চার-১ ও গ্রিনলাইন- ২ ও ৩ সহ মোট ১০টি লঞ্চে আধুনিক প্রযুক্তি
ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন ও আধুনিকায়ন করা এসব লঞ্চগুলোতে জিপিএস, ইকো
সাউন্ডার, ফগ লাইট, হাইড্রোলিক ও ইলেক্ট্রনিক হুইল, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক
যন্ত্র ব্যবহার করে থাকে। আবার এরমধ্যে সুন্দরবন কোম্পানির ২টি লঞ্চে
সিসিইউ এবং লিফলেটের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে এ লঞ্চগুলো ছাড়া বিলাসবহুল ও আধুনিকায়নের তকমা লাগানো দ্বীপরাজ,
পারাবত- ২, ৯, ১০; কীর্তনখোলা-১; সুন্দরবন-৮; টিপু-৭ সহ ১৩টি লঞ্চে রাডার
ছাড়া নেই তেমন কোনো আধুনিক সরঞ্জাম।

অপরদিকে বিলাসবহুল লঞ্চ হলেও সিসি ক্যামেরার আওতায় আসেনি সব লঞ্চ।
পারাবত- ২, ৯, ১০; দ্বীপরাজ; সুরভী কোম্পানির একটিসহ প্রায় ডজনখানেক
লঞ্চে নেই কোনো সিসি ক্যামেরা। পাশাপাশি অনেক লঞ্চেই নেই আনসার কিংবা
নিজস্ব সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থা। তাই বিলাসবহুল লঞ্চে যাত্রীরা
অনেকটাই অনিরাপদ যাতায়াত করছেন।

পারাবাত-১২ লঞ্চের মাস্টার আবুল কালাম জানান, আধুনিক সরঞ্জাম সব লঞ্চে
থাকলে নৌ-যাত্রা সর্বদা নিরাপদ থাকতো। যেমন নদীতে আমরা পানি মাপি ইকো
সাউন্ডার দিয়ে, আর পুরাতন নৌ-যান পানি মাপে বাঁশ দিয়ে। আবার কেউ রাতের
আকাশের তাঁরা দেখে লঞ্চ চালায়, কিন্তু আমরা জিপিআরএস এর মাধ্যমে লঞ্চ
চালাই। কেউ ফগ লাইট দিয়ে কুয়াশা ভেদ করে চলে যায়, আর কেউ চরে আটকা পড়েন,
কেউ ভিন্ন পথে চলে যান। যাতে যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল রুটের একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, সুরভী-৭, ৯;
সুন্দরবন-১০,১১,১২; পারাবত-১২; কীর্তনখোলা-২ ও অ্যাডভেঞ্চার-১ ছাড়া তেমন
কোনো লঞ্চে বিলাসবহুলের ছোঁয়া নেই। প্রায় সব লঞ্চেই ডেকের যাত্রী প্রথম
শ্রেণীর কেবিনের সামনেই চাদর পেতে যাতায়াত করছেন।
আবার অনেক লঞ্চের কেবিনে ছাড়পোকার জ্বালাও রয়েছে, রয়েছে কেবিনের বেডে
দুর্গন্ধ। অনেক লঞ্চের কেবিনে টেলিভিশন, ফ্যান নষ্ট বা না থাকলেও ভাড়ায়
কোনো কমতি হচ্ছে না। তাই নতুন লঞ্চগুলোতেই যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে।
ঢাকা-বরিশাল রুটের নিয়মিত যাত্রী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান,
ঢাকা-বরিশাল রুটে রোটেশন প্রথার কারণে আগাম বুকিং ছাড়া লঞ্চের কেবিন
পাওয়া যায় না। আর নতুন লঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে পুরান লঞ্চগুলো ধীরে ধীরে
যাত্রী হারাচ্ছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র উপ পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান,
পারাবাতসহ বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চকে সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য
একাধিকবার বলা হয়েছে, যাদের আনসার নেই তাদের তা নিতে বলা হয়েছে, কিন্তু
কর্ণপাত করা হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তার জন্য এসব বাধ্যতামূলক করতে শিগগিরই
নির্দেশনা আসছে বলে জানান তিনি।
আর সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সব লঞ্চকেই
করতে হবে। কিন্তু ভিএইচএফ নামে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেডিও ব্যবহার করা বৈধ
সব নৌ-যানের উচিত, এতে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে বলে মনে করেন
তিনি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net