শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৩৯

শিরোনাম :
কীর্তনখোলার ভাঙ্গন প্রতিরোধে ‘চরবাড়িয়া রক্ষা প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদিত

কীর্তনখোলার ভাঙ্গন প্রতিরোধে ‘চরবাড়িয়া রক্ষা প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদিত

dynamic-sidebar

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বরিশালের কীর্তনখোলা নদী ভাঙ্গনের কারণে নিঃস্ব হয় চরকাউয়াসহ চরবাড়ীয়ার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার ভাঙ্গলী এলাকা পরিদর্শন করেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। এসময় তিনি নদী ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহনের তাগিদ দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের। সাথে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ প্রকল্পে চালুর নির্দেশ দেন। এতে সাময়িক ভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ হয়। ওই সময় নদী ভাঙ্গন থেকে চরবাড়ীয়া রক্ষায় জনগনকে প্রতিশ্র“তি দেন। সে অনুযায়ী সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ’র নির্দেশ অনুযায়ী চরবাড়ীয়া রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পের পরিকল্পনা হাতে নেয় বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড। বরিশাল নগরী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়। আর সেখান থেকে কাটছাট করে প্রকল্প ব্যায় নির্ধারণ করা হয় ৩৩১ কোটি টাকা। প্রকল্প অনুযায়ী কীতর্নখোলা নদীতীরের ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। নগরীর বেলতলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নসহ শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পর্যন্ত এ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর আগে এই প্রকল্পটি ফাইল নানান কারণে দীর্ঘ দিন আটকে ছিলো। এই মধ্যে কীর্তনখোলা ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যায় ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। দিন দিন ভাঙন বাড়তে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ। নদীতে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। এর অবস্থায় সংসদ সদস্য জেবু্েনছা আফরোজ প্রকল্পটি ব্যায় অনুমোদনের জন্য একাধিকবার জাতীয় সংসদে চরবাড়ীয়াবাসীর দুঃখ দুদশার কথা তুলে ধরেন। তখন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশ্বাস দেন পানি ও নৌ মন্ত্রী। পরবর্তিতে ফাইলটি আটকে থাকে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে। সেখানেও চিঠি চালাচালি করেছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন, আজকের এই যুগান্তকারী প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ার মধ্যদিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার আবারো প্রমাণ করলো তিনি বিপদগামী জনগনের পাশে আছেন। যখনই এ দেশের মানুষ বিপদে পরেন তখনই তাদের পাশে দাড়ান তিনি। সাথে বরিশালের উন্নয়নে তিনি বধ্যপরিকর। তাই এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে মাননিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে হবে।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থাপিত দেশের প্রথম ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হতে যাচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। সেই লক্ষ্যেই ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ৪১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি সময় থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বড় পরিসরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক প্রকল্পও অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া আরো প্রকল্প হলো, ৬৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা শহরের সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গন থেকে চরবাড়িয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। ২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ‘রাজাপুর-পিরোজপুর কচা নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ৮২১ কোটি টাকা। ‘জিঞ্জিরা-কেরাণীগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭০ কোটি টাকা। এছাড়া ১৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পুলিশ বিভাগের ৫০টি হাইওয়ে আউটপোস্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় ফের বাড়ানো হয়েছে একনেক সভায়।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net