শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫৬

শিরোনাম :
হিজলায় পুকুরে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা, সমালোচনার ঝড় টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক উজিরপুরে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ৬০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত বাকেরগঞ্জে বৈদ্যুতিক তার চোরের উৎপাত, বাদ যাচ্ছে না ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বরিশালে নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হানের যোগদান বরিশালে র‌্যাবের চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে মাদকসহ আটক ১ শিবির করায় ববির চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর অতপর চাকরিচ্যুত বরিশালের ‘গডফাদার’ হাসানাত আব্দুল্লাহ এখন কোথায়? বরিশাল থেকে যেন কোন রোগীকে ঢাকায় যেতে না হয়: ড. জিয়া উদ্দিন

লিটুর আত্মত্যাগে প্রাণে বাঁচলেন সাদিক আব্দুল্লাহ!

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা॥ আমারে মারলে দূরের মানুষ মারবে না। আমারে মারলে আমার কাছের মানুষই মারবে….। ২০২২ সালের ১৫ই আগস্ট এমন আক্ষেপ করেই কথাটি বলেছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে বিক্ষুব্ধ জনতার বিগত বছরগুলোর চাপা ক্ষোভে সারা দেশের ন্যায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয় বরিশালও। আর সেই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় সাদিক আব্দুল্লাহ’র কালিবাড়ির বাসভবনটিও। যে বাড়িটি থেকেই বিগত বছর গুলোতে বরিশাল ক্ষমতার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

সেসময় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে সাদিকের এই বাড়িটিতেও। এসময় বাড়িটিতে আটকে পড়ে মৃত্যু হয় মঈন জমাদ্দার, নুর ইসলাম এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটুর।প্রবাদে রয়েছে, “বন্ধু তো সেই হয়, যে কঠিন সময়ে পাশে থাকে”। গাজী নঈমুল হোসেন লিটু হয়তো তারই উদাহরণ। যিনি মৃত্যু চোখের সামনে দেখেও সাদিক আব্দুল্লাহর পাশে ছিলেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

 

একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক উত্থানের শুরু থেকেই তিনি প্রতি ধাপে ধাপে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। ওই সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গাজী নঈমুল হোসেন লিটুর নিকট আত্মীয়রা ৫ আগস্ট দুপুরে একাধিকবার ফোন দিয়ে তাকে বাসায় আসতে বললেও, সাদিক আবদুল্লাহ’র জোড়াজুড়িতে তিনি কালিবাড়ির বাসা থেকে বের হতে পারেননি। এমনকি বিশ্বত্ব সূত্রটি আরো জানায়, তিনি ওই বাসা থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য দুপুরে বের হয়ে রিকশায় উঠেন।

 

 

কিন্তু পরবর্তীতে মাঝ পথে সাদিক আবদুল্লাহ তাকে পুনরায় ফোন করে বাসায় ডেকে নেন। অনেকেই বলাবলি করেন লিটুকে যদি ওইদিন সাদিক আবদুল্লাহ ফোন দিয়ে পুনরায় বাসায় না ডেকে নিতেন, তাহলে হয়তোবা লিটুর এই করুণ পরিনতি হতো না।

 

ঘটনার দিন মঈন ও নুর ইসলাম’র মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও তখন শনাক্ত করা যাচ্ছিলো না লিটুর মরদেহের পরিচয়। তখন মানুষের মাঝে ধোয়াশা ছিলো লাশটি নিয়ে, কেউ সন্দেহ করেছেন লাশটি ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত অথবা অন্য কারো। এঘটনার প্রায় ৪দিন পর একটি হাত ঘড়ি এবং একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয় লিটুর মরদেহের পরিচয়।

 

গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বরিশাল আওয়ামী লীগের গুরুপ্তপূর্ন পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঢালাও কোন অভিযোগ ছিলো না। এবং তিনি তার বিরোধী শিবিরেও স্বজ্বন ব্যাক্তি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। এজন্যই লিটুর মৃত্যুতে দলমত নির্বিষে গোটা বরিশালের মানুষ হয়েছিলো শোকাহত।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net