শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:২০

শিরোনাম :
বরিশালে নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হানের যোগদান বরিশালে র‌্যাবের চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে মাদকসহ আটক ১ শিবির করায় ববির চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর অতপর চাকরিচ্যুত বরিশালের ‘গডফাদার’ হাসানাত আব্দুল্লাহ এখন কোথায়? বরিশাল থেকে যেন কোন রোগীকে ঢাকায় যেতে না হয়: ড. জিয়া উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পবিপ্রবি ছাত্রদলের অংশগ্রহণ নিউটনের আপেলের মতো গণ-অভ্যুত্থান অটোমেটিক পড়েনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাগরে জলদস্যুর হামলায় ১২ জেলে আহত জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে : তথ্যমন্ত্রী জুলাই বর্ষপূর্তিতে বরিশালে ১১ দলের সমাবেশ

বরিশালে রাতের আঁধারে জব্দকৃত ইলিশ বিতরণ নিয়ে বিতর্ক!

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্কঃ

বরিশালে কোস্টগার্ডের অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ঝাটকা ইলিশ বিতরণকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাতে গোপনে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।

 

 

সূত্র মতে, মঙ্গলবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশালের সদর উপজেলার দপদপিয়া টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা মহিপুর থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক থেকে আনুমানিক ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ২ হাজার ৪০০ কেজি অবৈধ জাটকা ইলিশ জব্দ করে। জব্দের পর সাধারণত এসব মাছ গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মাদরাসা, এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

 

 

কিন্তু এবার সেই চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশালের রসুলপুর এলাকায় কোস্টগার্ড ক্যাম্পে বিতরণ কার্যক্রমের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং রাতের আঁধারে বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়। অনেক মাদরাসা শিক্ষক ও ছাত্র পরিচয়পত্র দেখিয়েও ক্যাম্পে ঢুকতে পারেননি। অথচ, বিতরণের সময় যাদেরকে মাছ নিতে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশের পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, “মোরা গরীব মানুষ, এই মাছ মোরা না পাইলে কারা পাইবে? গেইটের বাইরে দাঁড়ায়া ছিলাম, মাছ না দিয়া উলটা আমাদের সাথে রাগ করছে।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সাজ্জাদ জানান, “রাত ১১টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স কোস্টগার্ড ক্যাম্প থেকে বের হতে দেখি। গাড়ির পেছন থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল, মনে হচ্ছিল মাছের পানি। তখনই সবাই বুঝে যায়, কিছু একটা গোপনে হচ্ছে।”

 

 

এই বিতরণ কার্যক্রমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরিবর্তে উপস্থিত ছিলেন কেবল একজন অফিস স্টাফ, যার নাম হাসান। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, “রাত বেশি হওয়ায় আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে আমাদের একজন স্টাফ সেখানে ছিলেন।” আর অফিস স্টাফ হাসান বলেন, “আমি যতক্ষণ ছিলাম, তেমন কিছু হয়নি। স্থানীয়রা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের বের করে দেয়।”

 

গোপনে বিতরণ, গণমাধ্যম ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনুপস্থিতি এবং অ্যাম্বুলেন্সে মাছ পরিবহনের অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিতরণের নামে এই মাছ আসলে কারা পেয়েছে, এর সঠিক গন্তব্য কোথায়, এবং এ প্রক্রিয়ার বৈধতা কতটুকু, এসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে এই বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net