শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:০২

শিরোনাম :
বরিশালে নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হানের যোগদান বরিশালে র‌্যাবের চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে মাদকসহ আটক ১ শিবির করায় ববির চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর অতপর চাকরিচ্যুত বরিশালের ‘গডফাদার’ হাসানাত আব্দুল্লাহ এখন কোথায়? বরিশাল থেকে যেন কোন রোগীকে ঢাকায় যেতে না হয়: ড. জিয়া উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পবিপ্রবি ছাত্রদলের অংশগ্রহণ নিউটনের আপেলের মতো গণ-অভ্যুত্থান অটোমেটিক পড়েনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাগরে জলদস্যুর হামলায় ১২ জেলে আহত জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে : তথ্যমন্ত্রী জুলাই বর্ষপূর্তিতে বরিশালে ১১ দলের সমাবেশ

ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

dynamic-sidebar

১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান
খবর বরিশাল: 
আজ মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি পায়।

 

শেখ হাসিনার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। ৫ আগস্ট তাই একদিকে বিজয়ের দিন হলেও, একইসাথে এটি একটি বেদনাবিধুর দিন, কারণ সরকার পতনের পরও পুলিশের বর্বর হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারান।

 

দীর্ঘ শাসনামলে শেখ হাসিনা অহঙ্কার করে বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা পালায় না।” ২০২৪ সালের ২২ জুলাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকেও একই মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহ পর জনগণের প্রবল ঘৃণা ও চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে ভারতের দিল্লিতে পালিয়ে যান।

 

এর আগে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত ও ২০ হাজারের বেশি আহত হন, যা দেশকে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করে।

 

৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত জনসভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্টের কর্মসূচিকে আখ্যা দেন “৩৬ জুলাই” তাদের ভাষায়, শেখ হাসিনার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না।

 

ঐতিহাসিক সেই দিনে কড়াকড়ি কারফিউ উপেক্ষা করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকার পথে লাখো মানুষ রওনা হন। রাজধানীর রাজপথ দখলে নেন আন্দোলনকারীরা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করার পর ঢাকাসহ সারাদেশে জনতার উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে বিজয় উদযাপন করে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ কেবল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অর্জনকেই ধ্বংস করেনি, বরং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলেছে। ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, কোনো স্বৈরাচারী শাসনই শেষ পর্যন্ত জনগণের ইচ্ছার কাছে টিকতে পারে না।

 

যদিও এই আন্দোলনের পথ ছিল রক্তাক্ত, তবুও এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করেছে এবং প্রমাণ করেছে, জনগণের ঐক্যই সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net