শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:৩২

শিরোনাম :

শেবাচিমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা 
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি।

গত ২৮ জুলাই থেকে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথমে নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে চলছিল। বুধবার শ্রমিকদের হামলার পর আন্দোলনকারীরা শেবাচিম হাসপাতাল চত্বরে গণ-অনশনে বসেন। এর আগের দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা ‘নিরাপদ কর্মপরিবেশের’ দাবিতে মানববন্ধন করেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন ও মারধর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মচারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ও সেনা টহল দলের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন রনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের বক্তব্যই হামলার প্ররোচনা জুগিয়েছে। তিনি পূর্ব ঘোষিত তিন দফার সঙ্গে আরও একটি দাবি যোগ করে চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ দাবি করেন, প্রশাসনকে সময় দিতে আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত ছিল। যাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে নার্স ও কর্মচারী না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মিড লেভেল ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সাখাওয়াত হোসেন জানান, স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে আমাদেরও পূর্ণ সমর্থন ছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরিশালে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি মেনে নেন। এরপরও যারা আন্দোলন চালিয়ে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে তাদের কারণে আমরা কর্মপরিবেশ পাচ্ছি না।

তারপরও আন্দোলনে যৌক্তিকতা থাকায় আমরা চুপ ছিলাম। কিন্তু মহাপরিচালকের আশ্বাসের পর এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, শুক্রবারের মধ্যে আন্দোলন বন্ধ না হলে শনিবার থেকে আমরা লাগাতার কর্মবিরতিতে যাব। সে ক্ষেত্রে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে দেশের অন্য হাসপাতালও থাকবে।

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীম স্বীকার করেন, সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, তবে রোগীদের সেবা সচল রাখার চেষ্টা চলছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত।

উল্ল্যাখ্য, আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো, শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়া।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net