শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:২৭

শিরোনাম :

বরিশাল গণপূর্ত প্রকৌশলী বিধান মজুমদারের খুঁটির জোড় কোথায়?

dynamic-sidebar

  • তিন বছরের অধিক সময় ধরে একই জেলায় কর্মরত*

  • হাসানাত আব্দুল্লাহর সাথে সখ্যতায় ঘাটি বানিয়েছেন বরিশাল *

  • গড়েছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ

এইচ আর হীরা : আওয়ামী সরকারের বরিশালের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত গণপূর্ত অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার এখন আলোচনায়। একই জেলায় দীর্ঘ বছর যাবত দায়িত্ব পালন এবং এ সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী একই দপ্তরে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নিয়ম থাকলেও তিনি বরিশালে টানা ৯ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

 

জানা যায়, বরিশাল গণপূর্ত অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার দীর্ঘ বছর যাবত বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী একই দপ্তরে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নিয়ম থাকলেও তিনি বরিশালে টানা ৯ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন দপ্তরের একই জেলায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ২০১১ সালেও তিনি বরিশাল গণপূর্ত অধিদফতরের (সার্কেল) অফিসে কর্মরত ছিলেন।

 

অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রায় রোড এলাকায় একটি ৯(নয়)তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন বিধান মজুমদার। এছাড়া মাদারীপুরের ডাসারে তার গ্রামের বাড়িতে নামে-বেনামে একাধিক জমির মালিকানা রয়েছে।

 

বিধান মজুমদারের চাকরিজীবনের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২০ সালে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে বরিশাল গণপূর্ত অধিদফতরে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি এখানেই দায়িত্ব পালন করছেন।

 

হাতেম আলী কলেজের এক প্রফেসর বলেন, এমনিতে “সরকারি চাকরিতে সাধারণত ৩ বছর পর বদলির নিয়ম আছে। তবে, একেক দপ্তরে একেক রকমের বিধান রয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে একরকম, শিক্ষকদের জন্য আরেক রকম। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত একজন কর্মকর্তা একই দপ্তরে থাকতে পারেন। এর বেশি হলে সাধারণত বদলি হয়। তবে ব্যতিক্রম থাকলেও সেটা খুবই বিরল ঘটনা।”

 

(নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রায় রোড এলাকার নাম সর্বস্ব ৯(নয়)তলা বিশিষ্ট একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন বিধান মজুমদার।)

অভিযোগের বিষয়ে বিধান মজুমদার প্রথমে নয়তলা বাড়ির একটি ফ্ল্যাটের মালিক দাবি করলেও পরে জানান, ওই বাড়িটি আটজনের যৌথ মালিকানায় নির্মিত হয়েছে। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্ল্যান শাখার তথ্য অনুযায়ী বাড়ির হোল্ডিং খাতায় তার নাম রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উত্তেজিত হয়ে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মীদের সমালোচনা করেন এবং পরবর্তীতে অফিসিয়াল বক্তব্য না দিয়েই অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্ত অধিদফর (সার্কেল) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মানিক লাল দাস বলেন, “একই দপ্তরে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তবে কর্মকর্তাদের বিষয়ে আমরা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারি না। যদি সঠিক তথ্য প্রমাণসহ কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারি।”

সচেতন মহল মনে করছে, বিধান মজুমদারের বরিশালে থাকা এবং সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net