বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:০৪

শিরোনাম :
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার ইউনুস

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার ইউনুস

dynamic-sidebar

বানারীপাড়ায় রিসাইক্লিং শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত

সুমন দেবনাথ, বানারীপাড়া :
মানুষের ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত প্লাস্টিককে সম্পদে রূপ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়ার মো. ইউনুস। তার উদ্যোগে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছেন একদল বেকার নারী-পুরুষ; সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে প্রশংসার দাবি রাখছে।

বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্দর বাজার সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে ‘মেসার্স মাকছুদা এন্টারপ্রাইজ’ নামে ছোট একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন ইউনুস। মা মাকছুদা বেগমকে সম্মান জানিয়ে কারখানার নাম রাখা হয়েছে তাঁর নামে। ইউনুস এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এবং চালিয়ে আসছেন মা ও ছোট ভাই খোকনকে সঙ্গে নিয়ে।

ইউনুসের মা মাকছুদা বেগম দীর্ঘদিন বাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করে সংসার চালাতেন। সেই অল্প আয়ের ওপর ভর করেই বড় হয়েছেন দুই ছেলে। পরবর্তীতে তাদের সততা, পরিশ্রম ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই রিসাইক্লিং কারখানা।

২০১০ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ শুরু করেন ইউনুস। পরে সেগুলো ঢাকায় বিক্রি করতেন। ব্যবসা বাড়তে থাকলে নিজেই রিসাইক্লিং মেশিন কিনে চিপ (কাটা প্লাস্টিক) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত প্লাস্টিক চিপ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে বস্তায় ভরা প্লাস্টিক বোতলের স্তূপ। পাশে রাখা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বালতি ও আকারগতভাবে ভাঙার উপযোগী সামগ্রী। মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করা চিপ রোদে শুকাতে দেখা গেছে ইউনুসকে।

ইউনুস জানান, তিনি ১৪–১৫ বছর ধরে এই কাজে যুক্ত। “পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ শুধু পরিবেশকে ভালো রাখছে না, বরং এগুলো দিয়ে নতুন শিল্পপণ্য উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ইউনুসের ছোট ভাই খোকন বলেন, “যদি সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে এই শিল্প আরও বড় আকারে গড়ে তোলা সম্ভব। তাতে স্থানীয় বেকারত্ব দূর হবে, গ্রামাঞ্চলে পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে।”

বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ৬ হাজার কোম্পানি ও ৩০০টির বেশি রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট থাকলেও রিসাইক্লিং হার এখনো আশানুরূপ নয়। বানারীপাড়ার মতো এলাকায় ইউনুসের উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

শিক্ষক ও পর্যটক হাসান আহমেদ সোহাগ বলেন, “রিসাইকেলিং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পদ্ধতি। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোক্তা তৈরি হলে শুধু স্বাবলম্বিতা নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সরকারি সহযোগিতা পেলে বানারীপাড়ায় একটি বড় রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলাও সম্ভব।”

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net