বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪৯

শিরোনাম :

হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত বরিশাল

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা :
বরিশালে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও হিমেল উত্তরের বাতাসে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ, যাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমলেও উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার জেলার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, গত বছরের ৬ জানুয়ারি বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ চলতি বছরের তাপমাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, হকার ও দিনমজুররা। কাজ কম থাকায় আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

নথুল্লাবাদের মৎস্য ব্যবসায়ী ফোরকান মিয়া বলেন, “এমন শীত আগে কখনো দেখিনি। কয়েক দিন এভাবে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। দিনমজুরদের কাজ প্রায় বন্ধ, আর ঠান্ডাজনিত রোগও বেড়েছে।”

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আসাদ মিয়া বলেন, “ভোরে লঞ্চঘাটে যাত্রী নিতে গেলে ঠান্ডার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। কষ্ট হলেও বের হতে হয়, গাড়ি না চালালে পরিবারের ভরণপোষণ চলবে কীভাবে?”

শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতেও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বয়স্করা শীতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন। এ সময় উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার পানি পান এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও গভীর রাতে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net