খবর বরিশাল ডেস্ক :
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন আক্তার বলেন, “শুভর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। কিছুদিন আগেই তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে।”
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে গত ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন শুভ বৈরাগী। ওই পোস্টে তিনি নিজের প্রেমের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিজের মৃত্যুর জন্য এক তরুণী ও তার পরিবারকে দায়ী করে কিছু অভিযোগ করেন।
পোস্টে শুভ দাবি করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একদিন তরুণীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে গেলে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মিথ্যা ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাকে চুরির অপবাদ স্বীকার করতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার সামাজিক সম্মান ও মানসিক স্থিতি ভেঙে পড়ে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
শুভ আরও লিখেছেন, অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কটি মেনে নেওয়া হয়নি। এসব অপমান, মানসিক নির্যাতন ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনাই তাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে শুভ বৈরাগীর সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুলকার নাঈম বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, শুভ স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেনি; তাকে একপ্রকার আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply