খবর বরিশাল ডেস্ক :
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার ঢাকায় মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার আওতায় সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রাপ্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
নোটিস পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় দুদকের একজন কনস্টেবল গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় এবং একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে মূল কপি দরজায় টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবস অতিক্রান্ত হলেও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় মামলা দায়ের করা হয়।
সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও দলটির নেতাকর্মীদের বাড়ি ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি আদালতে গ্রহণের পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আইন অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply