শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৯

শিরোনাম :

বরিশালে হানিট্র্যাপ চক্রের ফাঁদে সিভিলিয়ান সেনা সদস্য!

dynamic-sidebar

                                                        >>নেপথ্যে স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও কথিত সাংবাদিক!<<

​খবর বরিশাল ডেস্ক :
বরিশাল নগরীতে এবার ‘হানিট্র্যাপ’ বা ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন সদ্য যোগদান করা এক সিভিলিয়ান সেনা সদস্য। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার প্রথম গলির একটি নির্জন মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সিভিলিয়ান সেনা সদস্যের নাম মোঃ আসাদ (২৫) (ছদ্মনাম)। তিনি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার ঘটকেরচর গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৫টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক আসাদকে জিয়া সড়কের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে আসে। সেখানে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে যান এবং তাদের বাধা দেন। স্থানীয়দের সামনেই আসাদকে ঘিরে ধরে ৬-৭ জন কিশোর ও যুবক চড়াও হয় এবং হেনস্তা করতে থাকে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নির্জন মাঠে এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা কালামের ছেলে সজিব এবং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা স্বপন খন্দকারের ভাগিনা পরিচয়দানকারী সিজানের নেতৃত্বেই মূলত এখানে এই অপকর্মগুলো চালানো হয়।”

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটির সাথে স্থানীয় কয়েকজন কথিত সাংবাদিকও জড়িত। ঘটনার সময় সাইফুল ও ইয়াদ নামের কথিত দুই সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভূমিকা রাখছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়ে অন্য এক স্থানীয় সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে, চক্রের সদস্যরা ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে। তারা দাবি করে, এটি কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং পাওনা টাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা চলছে। এরপরই চক্রের সদস্যরা সেনা সদস্য বাবুকে দুটি মোটরসাইকেলের মাঝে বসিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।

​বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার পর আসাদকে আটকে রেখে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে চক্রটি। পরে বাবুর গোপন ভিডিও এবং ফোন রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার বাবা ও এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

​এদিকে, সামাজিক মর্যাদা ও মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে ভুক্তভোগী আসাদের পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এমনকি লোকলজ্জার ভয়ে তারা সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

​এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন উল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

​তিনি আরও জানান, পুলিশ এই ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং ও হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহেও এই চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে ওসি সাধারণ জনগণকে এই ধরনের চক্রের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net