খবর বরিশাল ডেস্ক : বরিশাল মহানগরে সিটি বাস চালুর দাবি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, গণপরিবহন সংকট এবং যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান ভোগান্তির কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। নগরবাসীর প্রশ্ন, সিটি বাস চালু হলে কি বর্তমান ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান ঘটবে?
বর্তমানে নগরীর অধিকাংশ মানুষ অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভরশীল। যাত্রীদের অভিযোগ, একই রুটে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়া ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত ১৮ জুন নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সিটি বাস চালু, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের দাবির প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমর্থন দেখা যায়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি বাস চালু হলে কম খরচে অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। নির্দিষ্ট রুট, স্টপেজ ও ভাড়া ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে এবং পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগও সীমিত হবে। একই সঙ্গে বড় আকারের গণপরিবহন চালুর ফলে যানজট ও জ্বালানি অপচয় কমানো সম্ভব হবে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস চালুর দাবি থাকলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নগরবাসীর দাবি, নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়া, নিরাপদ ও নিয়মিত গণপরিবহন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প খরচে যাতায়াত সুবিধা এবং সিটি বাস চালুর একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply