মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৬

নাশকতা মামলার বেড়াজালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

নাশকতা মামলার বেড়াজালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : 
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর অভিযোগ ক্রমেই আলোচনায় আসছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এমনই একটি মামলাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোটা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মেহেদী হাসান এবং তাঁর পরিবার। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া একটি নাশকতা পরিকল্পনার মামলায় তাঁকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কাদের মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, সায়েন্সল্যাব মোড়সংলগ্ন সিটি মার্কেটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও যানবাহনে নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক করছিলেন।

মামলায় চারজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকার ঝিলপাড় এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মো. আশিক মিয়া, বরিশালের উজিরপুরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মেহেদী হাসান, নাটোরের সিংড়া উপজেলার যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর ছাত্রলীগ নেতা মোহন খান।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩০ থেকে ৪০টি বাঁশের লাঠি, ইটের টুকরা, বিয়ারিংয়ের বল, কাচের বোতল, রড, হকি স্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল।

তবে মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসানের পরিবারের অভিযোগ, এজাহারে উল্লেখিত সময় ও স্থানে তাঁর উপস্থিতির কোনো প্রমাণ নেই। তাদের দাবি, ঘটনার দিন তিনি সায়েন্সল্যাব এলাকায় ছিলেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও নেই। রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, “ব্যক্তিগত আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, ওই তারিখে আমি ঘটনাস্থল তো দূরের কথা, বাংলাদেশেই ছিলাম না।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের অনেক আগে থেকেই আমি লন্ডনে অবস্থান করতে শুরু করি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে নিউমার্কেট থানার সায়েন্সল্যাব ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িয়েছে। যেখানে আমি উপস্থিতই ছিলাম না, সেখানে আমাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।”

মেহেদী হাসানের দাবি, প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হলে মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রফিক হাওলাদারের ওপর। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা এবং আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এদিকে, মামলাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তই এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net