শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৩৫

শিরোনাম :
বরিশালে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২ ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭ বরিশালের লাকুটিয়া খাল খনন না করেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ নতুন ভবনের অপেক্ষায় ১৫০ শিক্ষার্থী, তপ্ত টিনশেডেই চলছে পাঠদান বরিশালজুড়ে মাদকের ভয়াল থাবা, শতাধিক স্পটে ওপেনে বিক্রি মানবপাচার মামলার আসামি ইলিয়াস ফকির গ্রেপ্তার হাসানাতের প্রাসাদ এখন শিয়াল-কুকুরের আস্তানা বরিশালের জয়ন্তী নদীতে ট্রলারে নৌ পুলিশের অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ চিকিৎসাধীন সাংবাদিক এম. মিরাজের খোঁজ নিলেন রহমাতুল্লাহ বানারীপাড়া-বরিশাল সড়ক যেন মারণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা বরিশালে সরকারি খাল ও চরের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

অপপ্রচারের প্রতিবাদে বরিশালে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক: 
সরকারি বিএম কলেজের এক সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। একই সাথে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, গত ২৯ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিএম কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি আব্দুল্লাহ নতুনবাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল সদর হাসপাতাল এবং পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী কোতোয়ালি মডেল থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু তারা নতুনবাজার এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আব্দুল্লাহর ওপর হামলাকারীদের সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে দ্বিতীয় দফায় অতর্কিত আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে নেতাকর্মীরা নিরাপদে কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি আইনি প্রতিকার বা আশ্রয়ের জন্য থানায় যাওয়ার পথেই এভাবে হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। ছাত্রদল কখনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই তারা সেদিন থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কিছু অনলাইন ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে বাস্তব ঘটনার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। কিছু সংবাদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরো ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি কোনো কোনো সংবাদপত্রে অভিযুক্তদেরই উল্টো ভুক্তভোগী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাজিয়ে প্রায় একই ভাষায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকে ছাত্রদল সম্পাদকের কোনো বক্তব্য গ্রহণ না করেই তার নামে মনগড়া বক্তব্য চালিয়ে দেওয়ারও নিন্দা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তবে সাংবাদিক সমাজের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে ছাত্রদল নেতারা বলেন, সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি এবং বরিশালের অধিকাংশ সাংবাদিকই অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে বিএম কলেজ ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। নেতারা স্পষ্ট করেন যে, কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টা মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক রায়কেই অবমাননা করার শামিল। বিগত এক সপ্তাহে ক্যাম্পাসে সৃষ্ট নানা অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে চারটি মূল দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি আব্দুল্লাহর ওপর হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা, থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা, কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রকৃত অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাজীবন বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার যেকোনো চক্রান্তের জবাব ভবিষ্যতেও আইন, নৈতিকতা ও সত্যের ভিত্তিতে দেওয়া হবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করা হয়।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net