মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:০৮

বরিশালে থানায় হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তার আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান।

তিনি জানান, থানায় হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে, আমরা কার কাছে যাব। এই পোশাক রাখব না। পাবলিক দেখেছে, সাংবাদিক দেখেছে। একটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, একটা যদি ভুল তথ্য পায়, এই পোশাক খুলে ফেলব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে যদি আমরা প্রতি কাজে বাধা পাই, তাহলে আমরা তো সামাল দিতে পারব না। সঠিক কাজটা করতে পারব না। আজকে মাদক কারবারি, চোরদের জন্য আমাদের দেশের এ অবস্থা। কোথায় যাব আমরা, থানার মধ্যে ঢুকে নির্মমভাবে এতগুলো মানুষকে মারল। যে পুলিশ সেবা দেবে আজকে তারাই বিচারের জন্য দাঁড়িয়ে।’

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই ) রাত পৌনে ৮টার দিকে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকির নামের যুবককে চুরি মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মাদক মামলাও রয়েছে।

 

 

ওইদিন রাত ৯টার দিকে থানা হাজতের ভেতরে লোহার শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রিয়াজ। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

 

পুলিশ হেফাজতে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা করে একদল গ্রামবাসী। এ সময় কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে এবং ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারতে মারতে থানার বাইরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

 

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।

অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) চাচা কাঞ্চন ফকিরসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net