খবর বরিশাল ডেস্ক
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ‘আষাঢ়ের ফল, শ্রাবণের জল’ স্লোগানে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কলেজের ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের ৩০২ নম্বর কক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স কোর্সের চার বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মাস্টার্সের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুন্নেছা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, লাবু আনোয়ার, মামুন গাজী, নাজমুল ইমন, ফিরোজ আলম, প্রজিত বড়াল ও শাহজালাল নাঈম।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার লামিয়া বলেন, “একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন আমাদের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা শিক্ষাজীবনকে আরও আনন্দময় করে তোলে।”
অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এ এইচ এম মুকতাদির বলেন, “আজকের এই আয়োজন ছিল বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর মিলনমেলা। আমরা বিভিন্ন মৌসুমি ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমরা চাই, প্রতিবছর এমন আয়োজন অনুষ্ঠিত হোক।”
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারা বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় মৌসুমি ফলের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা চাইলে মৌসুমি ফলের ব্যবসায় উদ্যোগ নিতে পারে। এতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও গড়ে উঠবে।”
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুন্নেছা বলেন, “শুধু ফল খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত ফল নির্বাচন করাও জরুরি। বর্তমানে বাজারে ফরমালিনযুক্ত ফলের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। তাই ফল কেনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।”
বক্তৃতা শেষে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আম, কাঁঠাল, পেঁপে, আনারস, লটকন, জাম্বুরা, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়। পরে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। বিরতির পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান, কবিতা আবৃত্তি, একক ও যৌথ নৃত্য পরিবেশিত হয়।
শগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠান উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বিএম কলেজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অন্যান্য বিভাগেও নিয়মিতভাবে আয়োজন করা উচিত। দিনব্যাপী এ ফল উৎসব বিকেল সাড়ে ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply