খবর বরিশাল ডেস্ক :
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে শতাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
আদালতের নথি অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৮৪৪৮/২০২৫-এর আদেশে হিজলা উপজেলার ৩৫ নম্বর সৈয়দখালী সাওড়া মৌজার ৩৮৭৮ থেকে ৩৮৮১ নম্বর প্লটে বালু উত্তোলনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ নির্দেশ অমান্য করেই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বালু উত্তোলনকারীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী একটি মহলের সহযোগিতায় তারা প্রতিনিয়ত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীভাঙনের কারণে হিজলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ৮৮ নম্বর পোমা, ৩৫ নম্বর সৈয়দখালী সাওড়া এবং ৯১ নম্বর অনোলিয়া মৌজাসহ একাধিক বালুমহালের ওপরও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ খনন করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি ঘনফুট বালু বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। পাশাপাশি বালুবাহী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে শতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চললেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোলায়মান বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু আমরা পৌঁছানোর আগেই তারা বিভিন্নভাবে খবর পেয়ে যায়। ফলে তাদের আটক করতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে একই এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ড্রেজার, বাল্কহেড ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযান পরিচালনার পরও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply