সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০০

শিরোনাম :
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ৩ নেতাকে মারধর! বিক্ষোভের মুখে এবার বরিশালের সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহার লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জবাসী বানারীপাড়ায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০ বরিশালের ৬ রুটে চলছে বাস ধর্মঘট, যাত্রীদের ভোগান্তি জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জীবনের অনুপ্রেরণা : বরিশাল সিটি প্রশাসক আদালতের নির্দেশে ২৮টি চোরাই গরু নিলামে বিক্রি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৪ মাস পর গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক বরিশালে ২৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

বিক্ষোভের মুখে এবার বরিশালের সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহার

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : বিক্ষোভের মুখে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে প্রত্যাহারের রেশ কাটতে না কাটতে এবার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আজ রোববার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গত ১৯ দিনে এই দুই শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলো।

ডা. মনিরুজ্জামানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তাঁর পদায়ন বাতিলের দাবিতে ২৬ জুলাই সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল সকালে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা দেন আন্দোলনকারীরা।

জানা গেছে, পদায়নের আদেশ পেয়ে ডা. মনিরুজ্জামান গত ২৪ জুলাই বরিশালের সিভিল সার্জন পদে যোগ দেন। তবে তাঁর পদায়ন বাতিল দাবিতে ২৬ জুলাই ১৫ জন শিক্ষার্থীর একটি দল গিয়ে সিভিল সার্জনের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে নেতৃত্ব দেন গণঅধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ। তিনি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা প্রতি কর্মদিবসে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে আসছিলেন।

আজ সকালে আবারও সাব্বিরের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী গিয়ে প্রধান ফটকে তালা দেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাইরে অবস্থান করছেন। সাব্বিরের নেতৃত্বে ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ানো।

সিভিল সার্জন দপ্তরের জেলা নার্স কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীরা সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রতিটি কক্ষে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে বলেন। সবাই বের হলে প্রধান ফটকে তালা লাগানো হয়।

শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানান, তারা অল শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তবে সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের প্রত্যাহারের আদেশের অনুলিপি পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান ফটক খুলে দিয়েছেন। নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত তাঁর কক্ষে তালা লাগানো থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই এ প্রজ্ঞাপন স্বাক্ষরিত হয়। তবে বরিশালে নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বরিশালের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ আগস্টের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিন থেকেই তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তার অভাবে গত সপ্তাহে ডা. মনিরুজ্জামান কর্মস্থলে যাননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের শেষ ভাগে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে ছিলেন। তখন পদের স্বার্থে তাঁকে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে। গতকাল মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ডা. মনিরুজ্জামান ধরেননি।

গত মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন। তাঁকেও ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) একাংশ আন্দোলন করে। ৯ জুলাই পরিচালককে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে তালা দেওয়া হয়। ড্যাবের আরেকটি অংশ পরিচালকের পক্ষে অবস্থান নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১২ জুলাই শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়।

এবার সিভিল সার্জনের পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাব্বির শুরু থেকে দাবি করেন, ড্যাবসহ স্থানীয় বিএনপি তাদের সঙ্গে রয়েছে। কৌশলগত কারণে তারা সামনে আসেননি। তবে জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, এ আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।

ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে সাব্বিরের নেতৃত্বে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলী সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন বিক্ষোভ শুরু হয়। এর কয়েক দিন পর তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net