খবর বরিশাল ডেস্ক: সুগন্ধা নদীর তীরে ফসলি জমি। চারপাশে বসতবাড়ি, কৃষিজমি আর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। কিন্তু সেই পরিবেশেই গড়ে উঠেছে টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা। কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া ও দূষণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কথা জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এবার সেই কারখানাতেই অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের দ্বারিকা এলাকায় ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ নামে ওই টায়ার রিসাইক্লিং প্লান্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রসিকিউশন (আইনি অভিযোগ) প্রদান করেন বলে জানাগেছে।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং একজনকে আসামি করা হয়। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না।
তবে স্থানীয়দের কাছে এ জরিমানা শুধু একটি অভিযান নয়। এটি দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে ওই এলাকায় কারখানাটি স্থাপন করা হয়।
শুরুতে কারখানার কার্যক্রম নিয়ে তেমন আপত্তি না থাকলেও পরবর্তী সময়ে কালো ধোঁয়া ও দূষণের কারণে পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে সমস্যায় পড়ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, শুরুতে কারখানাটির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে এলাকার মানুষ তেমন বুঝতে পারেননি। পরে কালো ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকলে কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মালিকপক্ষকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হয়নি।
গত বছরও কারখানাটির কালো ধোঁয়া ও দূষণের অভিযোগ তুলে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কারখানাটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে গত ২৫ জুন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো আইনি নোটিশেও ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’-এর কার্যক্রম নিয়ে পরিবেশগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। নোটিশে কারখানাটি সাত দিনের মধ্যে বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানাটির কার্যক্রমের কারণে কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্যে স্থানীয় পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নদীর প্রতিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না জানান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply