খবর বরিশাল ডেস্ক : বরিশাল জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়লেও সেই তুলনায় সরবরাহ না বাড়ায় নগর ও গ্রামীণ—দুই এলাকার গ্রাহকরাই লোডশেডিংসহ নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়াই সংকটের অন্যতম কারণ।
তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। দুই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে আরও প্রায় ৫ লাখ ৭৯ হাজার গ্রাহক। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার এবং সমিতি-২-এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। ফলে জেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার। এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানও উদ্বেগজনক।
২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট।
বরিশাল নগরীর ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২-এর ক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতির চিত্র পাওয়া গেছে। এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিভাগ-১-এর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে ৪০ মেগাওয়াট চাহিদার জায়গায় ২০ মেগাওয়াট এবং বিভাগ-২-এর প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহকের ক্ষেত্রেও সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পাঁচ উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ গ্রাহকের জন্য চাহিদা প্রায় ৭৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৮ মেগাওয়াট বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ ক রে সেচনির্ভর কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। গ্রামাঞ্চলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও বেচাকেনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গরমের সময় ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে বরিশাল অঞ্চলে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরোনো সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বরিশালের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন মহল। অন্যথায় ক্রমবর্ধমান গ্রাহক ও বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তারা।
ওজোপাডিকো বরিশাল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার মুঠোফোনে বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে রোটেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফিডারে সরবরাহ দিতে হয়। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পিক আওয়ারে চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল প্রায় ৫০ মেগাওয়াট। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহের ঘাটতি। ঘাটতি কমলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৭৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৮ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। ফলে ঘাটতি পূরণে রোটেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply