সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:২৩

শিরোনাম :

ঘুরতে গিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে লাঞ্ছিত ব্যাংক কর্মকর্তা

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক ব্যাংক কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বরিশাল মেট্র‍োপলিটন বন্দর থানায় আলাদা দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. রাজ্জাক মোল্লা।


অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম শাওন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনিক এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইশরাক।
​অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক মোল্লা তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মেরিন একাডেমি সড়কে ঘুরতে যান। এ সময় অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী তাঁদের কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চান। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের লোক হিসেবে পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তাঁদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

​ভুক্তভোগী অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার মাথায়, মুখে ও বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন এবং সঙ্গে থাকা বান্ধবীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ব্যাংকের এটিএম কার্ড কাজ না করায় ৩ নম্বর গেটের বিপরীত পাশের একটি বিকাশ ও নগদ দোকান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা উত্তোলন করিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সোনালী ও ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।

​ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা আ: রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পাশের রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে এমন নৃশংস হামলা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আমি চরম আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রাশেদুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা তাদের নদীর পাড়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরেছিলাম এবং পরে বাইকে করে ক্যাম্পাসের সামনে দিয়ে এসেছি। যেই অভিযোগ করা হয়েছে তার সত্যতা যাচাইয়ে ক্যাম্পাসের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই আসল ঘটনা প্রকাশ পাবে।’

এ বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরতে গিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার বিষয়ে এক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net