খবর বরিশাল ডেস্ক ::
দীর্ঘ বছর অপেক্ষার পর বরিশাল জেলা পুলিশে যুক্ত হচ্ছে দুটি সরকারি গাড়ি। জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমানের প্রচেষ্টায় অবশেষে বরাদ্ধ ছাড় দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর ফলে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন ও আসামী গ্রেফতারসহ পুলিশের কর্মস্পৃহা আরও তরান্বিত হবে বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তবে এখনও ঘাটতি রয়েছে থানা ও জনবলের বিপরীতে যানবাহন সংখ্যার।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে ১০ টি থানা, ৪ টি তদন্ত কেন্দ্র ও ২ টি ফাড়ি রয়েছে। আর এক হাজার ৯ শতাধীক জনবলের বিপরীতে রয়েছে ১৭’শ এর মত। এরমধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কাজিরহাট থানায় ১ টি করে সরকারি গাড়ি থাকলেও মুলাদীর বোয়ালিয়া, হিজলার শেওরা সৈয়দখালি ও বানারীপাড়ার লবনছড়া তদন্ত কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন গাড়ি বরাদ্ধ দেয়া হয়নি।
এসব পুলিশ স্টেশন গুলোতে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রন ও আসামী গ্রেফতার অভিযানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে আরও শোচনীয় অবস্থা নদীবিধৌত দুর্গম চরাঞ্চলের এলাকা হিজলা, কাজিরহাট ও মেহেন্দীগঞ্জের থানাগুলোর নৌযানের ক্ষেত্রে।
সেখানে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে যেতে একমাত্র বাহনই হচ্ছে নৌযান। উপজেলা দুটির অধিকাংশ এলাকাতেই যোগাযোগের জন্য সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সাধারণ মানুষ কিংবা পুলিশ সবাইকেই নির্ভর করতে হয় নৌযানের উপর। ইউনিয়ন ভিত্তিক সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকার সুবাদে অপরাধীরাও নানা ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর ধরাছোড়ার বাহিরে থেকে যায়। অথচ হিজলা থানায় অদ্যবদি কোন নৌযান বরাদ্ধ দেয়া হয়নি। স্পীড বোর্ডের অভাবে আসামী গ্রেফতারে ব্যবহার করা হয় ট্রাকটর মেশিনের ট্রলার। পুলিশের এই যানবাহন সংকোটের কারনে অপরাধীরা এই অঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে যানবাহন চেয়ে একাধিক পুলিশ সুপার চেষ্টাও চালিয়েছেন। কিন্তু বরাদ্ধ দিয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ছাড় করেনি এসব যানবাহন। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তািফজুর রহমান পুনরায় বরিশাল জেলার পুলিশ স্টেশনগুলোর জন্য ৬ টি গাড়ি বরাদ্ধ প্রার্থনা করেন।
অবশেষে তার প্রচেষ্টায় মন গলেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ৬ টি না হলেও দুটি সরকারি গাড়ির বরাদ্ধ ছাড় করা হয়েছে। শীগ্রই গাড়ি দুটি পাওয়া যাবে জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তািফজুর রহমান জানান, গাড়ি দুটি পেলে জেলার পুলিশ স্টেশনগুলোতে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রন আরও সহজতর হবে।
ফোর্সদের কর্মস্পৃহাও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে গৌরনদী ও উজিরপুর থানায় দুটি করে সরকারি গাড়ি থাকলেও হাইওয়ের কারনে তা যথেষ্ট নয়। তাছাড়া যানবাহন সংকোট থাকলে ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগের সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়। কেননা একই সময় একাধীক অভিযোগ চলে আসে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply