খবর বরিশাল ডেস্ক ::
খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র টেস্ট ভেন্যু। অথচ এই মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরের কথা, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টের ম্যাচও হচ্ছে না। একই চিত্র বরিশালের জীবনানন্দ ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও। ১৯৬০ সালে নির্মিত এই মাঠটি কখনো আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়নি। এমনকি এখানে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ আয়োজনও একসময় বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সম্প্রতি সংস্কারের পর আবারও খেলার উপযোগী হয়েছে মাঠটি। ফলে খুলনা ও বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে ফের মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন একটি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এই দুই ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
সংস্কারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসর আয়োজন করছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কয়েক দফা মিটিংয়ের পর সব পক্ষই একমত হয়েছে। তবে বিপিএলের বিকল্প হিসেবে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনে ক্রিকেটারদের দাবি অবশ্য শোনেনি বিসিবি। বরং জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দিয়ে আরও বড় পরিসরে করতে যাচ্ছে বিসিবি।
ইতিমধ্যে ৬ দলের মধ্যে ৫টি দলের মালিকানাই নিশ্চিত হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের অন্তত গ্রুপ পর্বটি খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বরিশালের জীবনানন্দ দাস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে করতে চায় বিসিবি।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কোথায় হবে তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা এমনই চিন্তা করছি। নতুন যে টুর্নামেন্টটি আসছে সেটির অন্তত গ্রুপ পর্ব দুটি স্টেডিয়ামে করতে পারি। সেটা খুলনা ও বরিশালে করার পরিকল্পনা করছি। সেমিফাইনাল আর ফাইনাল নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অন্তত গ্রুপ পর্বটা ওই দুই মাঠে হতে পারে।’
কবে নাগাদ শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নে এই বিসিবি পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী আসরটি ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারির শুরুতে শুরু হওয়ার একটা সম্ভাব্য তারিখ আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছিল টাইগাররা। এরপর নিয়মিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ হলেও অন্য কোনো জাতীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচও পায় না খুলনা। সবশেষ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল খুলনায়।
এরপর কেবল জাতীয় লিগের ৪ দিনের ম্যাচেই আটকে আছে খুলনা। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রবল কালবৈশাখী বয়ে যায় স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে। এরপর টানা কয়েক বছর অবহেলায় পড়ে ছিল ভেন্যুটি। সংস্কারের জন্য নানা সময়ে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজই শুরু হয়নি।
খুলনা ভেন্যুর একটি সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, ‘প্রকল্পের কাজ আসলে বিসিবি থেকে অনুমোদন হয়েছে। বিসিবির ইঞ্জিনিয়ার ও কনসালটেন্টরা এসে ভিজিট করে গেছেন। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। এখন যখন ওনারা কাজ শুরু করবেন, তখন আমরা বুঝতে পারব কাজ শুরু হয়েছে।’
জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি আয়োজনের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে খুলনা স্টেডিয়ামে দায়িত্বরতদের জানায়নি বিসিবি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা স্টেডিয়ামের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও শুনেছি খুলনায় এবার খেলা দিচ্ছে। তবে এখনো অফিশিয়ালি জানায়নি। যদি খেলা দেয়, তাহলে হয়তো এবার সংস্কারটা হবে অবশেষে।’
অন্যদিকে বরিশালের স্টেডিয়ামটি দীর্ঘ ২১ বছর ধরেই অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০২২ সালে এসএসসির উদ্যোগে স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বৃহৎ আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সংস্কার কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্টেডিয়ামের কর্মকর্তারা আশা করছেন বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট দিয়েই খেলায় ফিরবে কীর্তনখোলা নদী পাড়ের স্টেডিয়ামটি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply