খবর বরিশাল ডেস্ক ::
গত বছর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভে এসে মিনহাজ বলেন, মাস্টার্সে বাংলা ছোটগল্প কোর্সে সে ১৭টা ক্লাসের মধ্যে ১৪টা (৮০%+) ক্লাস প্রথম বেঞ্চে বসে করেছেন। ওই শিক্ষক উপস্থিতি নম্বর দিয়েছেন শূন্য, নম্বর ডিসপ্লে করা হলে তার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। না হলে তিনি বিষয়টি জানতেনও না।
অথচ পাঁচটি কোর্সের মধ্যে চারটি কোর্সে তার উপস্থিতিতে নম্বর ছিল সাড়ে চার থেকে পাঁচ করে। তার অভিযোগ- একমাত্র শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকারের কারণে তার অনার্স পাস করতে ৮ বছর লেগেছে। ফাইনাল ইয়ারে তাকে দুবার ফেল করার এ শিক্ষক। প্রথম বর্ষে কম নাম্বার দেন, দ্বিতীয় বর্ষে এবং তৃতীয় বর্ষে একবার করে ফেল করান।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে তদন্ত কমিটি তদন্ত করে সম্প্রতি রিপোর্ট জমা দেন। সেই ক্ষোভে শিক্ষক সঞ্জয় কুমার ৪র্থ বর্ষে তার দুটি কোর্সে ইন্টার্নালে ৭ ও ১২ দিয়ে ফেল করায়। পরের বার ইম্প্রুভ দিলে ৩৯ দিয়ে দুইটা কোর্সে আবারও ফেল করায়।
যার পরিপ্রেক্ষিতে মাষ্টার্সে ১৭টি ক্লাসের মধ্যে ১৪টি ক্লাসে উপস্থিত থাকার পরও ফেল করিয়ে তাকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা মিনহাজের।
মিনহাজ বলেন, তাকে এসাইনমেন্টে শূন্য দেয়া হয়েছে। অথচ অনেকে কপি করেও ৭ পেয়েছে, তিনিই (ওই শিক্ষক) উপরে কপি লিখে দিয়েছেন।
মিনহাজ বলেন, ২০২৪ সালে দেবাশীস দাস নামের ছাত্র একটা ক্লাস না করেও তাকে ফুল নম্বর দেয়া হয়। আবার রহমান নামের একজন ৩টা ক্লাস করলেও তাকে ১৫টা ক্লাসের উপস্থিতি দেয়া হয়। তার (ওই শিক্ষক) ব্যক্তিগত অনেক পরীক্ষার্থীকে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে একটা ভালো সিজিপিএ দিয়েছেন। মিনহাজের কাছে সবকিছুর প্রমান রয়েছো বলে জানান তিনি।
মিনহাজের দাবি তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে প্রথম বর্ষ থেকেই সঞ্জয় কুমার তার উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তার প্রমাণ মিলে উত্তর পত্র থেকে শুরু করে ক্লাসে উপস্থিতি এবং আট বছরে অনার্স পাস করা। তার আশঙ্কা মাস্টার্সেও একই ধরনের আচরণ করবেন এই শিক্ষক।
মিনহাজ বলেন, শেষবারের মত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর ভরসা করবো, না হয় আত্মঘাতী সিদ্বান্তে যাব। নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, এর পূর্বে মিনহাজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছিল। সম্প্রতি আবারও এ ধরনের অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে, তবে সেই অভিযোগের লিখিত কপি তিনি পাননি। তার ধারণা রেজিস্টার কার্যালয় থাকতে পারে হলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: মামুন অর রশিদ বলেন, মিনহাজের লিখিত অভিযোগ তার কাছে যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply