বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:২৯

শিরোনাম :
বাল্যকালের স্মৃতির সন্ধানে বরিশালের অলিগলিতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

বাল্যকালের স্মৃতির সন্ধানে বরিশালের অলিগলিতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

dynamic-sidebar

বাল্যকালের স্মৃতির সন্ধানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশালের অলিগলি ঘুরছেন। শুক্রবার সকালে তিনি তার জন্মস্থান নগরীর বগুড়া রোডের ডগলাস বোর্ডিং (সেন্ট এ্যানস্ মেডিকেল সেন্টার) পরিদর্শনকালে রেজিস্ট্রারে তার মায়ের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

রেজিস্ট্রারে অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ৩০ আগস্ট এখানে জন্মগ্রহণ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৪৫০) করেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর তিনি বিএম কলেজ সংলগ্ন তার পৈত্রিক ভিটার সামনে গিয়ে খুঁজে ফেরেন তার বাল্যকালের স্মৃতি। বিএম কলেজের সামনে পৌঁছামাত্র কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানান সস্ত্রীক এই অতিথিকে।

আপন আঙ্গিনায় বিচরণ করতে গিয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, স্মৃতির বিলুপ্তি নেই। যত ঘুরে যাই কেবলই স্মৃতির দেখা পাই।

পৈত্রিক বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই অনুভূতি নিজের কাছে থাকাই ভালো। জন্মস্থান পূর্ব পুরুষের পৈত্রিক বাড়ি ঘুরে দেখার জন্যই তার বরিশাল আগমন। জন্মস্থান দেখে তিনি অভিভূত।

তখনকার বরিশাল আর এই বরিশালের পার্থক্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখনকার বরিশাল এত উন্নত ছিল না। তখন রাস্তাঘাট ছিল না। গ্রাম্য পরিবেশ ছিল। ডগলাস বোডিংয়ের (যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন) চিকিৎসা ব্যবস্থাও উন্নত ছিল না।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করতেই বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা দুটি দেশের ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে যা বলার বলেছেন। এর বেশি কোন কথা তিনি বলতে চান না। রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে
আলোচনা করে, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। এখানে তার নিজের ব্যক্তিগত কোন মতামতের জায়গা নেই।

এসময় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহধর্মিণী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মিডিয়া এটাচি রঞ্জন মন্ডল, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফারুকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর তিনি বরিশালের গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া মঠ, আগৈলঝাড়ার গৈলায় মনষা মঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের মনষা মন্দির পরিদর্শনে যান। বিকালে যান বরিশাল মহাশ্মশান ও চারণ কবি মুকুন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত কালিমন্দির দর্শনে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই বুকের ভেতর চাঁপা প্রত্যাশা ছিল জন্মভূমিতে আসার। সে আশাপূরণ হয়েছে। পরিবারের আর কেউ বাংলাদেশে আসার সুযোগ পায়নি।

তিনি বলেন, একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশভাগের সময় জন্মস্থান ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল পুরো পরিবারকে। কলকাতায় গিয়েও একটা করুন অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন তারা। বাবা প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঠাকুর দা সতীশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশালে আইন পেশায় ছিলেন।

আগামীকাল ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা হয়ে আকাশপথে জন্মস্থান বরিশালে আসেন তিনি।

শনিবার সকাল ১০টায় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সকাল ১১টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বরিশালের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে তার। এরপর দুপুরে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করার কথা রয়েছে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

 

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net