গাছের নতুন পাতা, শিমুলের ডালে আগুন রাঙা বাসন্তী ফুল জানান দিচ্ছে, ইট কংক্রিটের রাজধানী ঢাকাতেও আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। ঋতুচক্র এখন পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না ঠিকই, কিন্তু বসন্ত লুকিয়ে আসতে পারে না। প্রকৃতি তার নতুন সাজে জানান দেয়, বাতাসে লাগিছে দোলা।
ফাগুনে চাই আগুনরাঙা সাজ।

রঙিন পোশাকে উৎসবের রঙে রাঙাতে বসন্ত আজ দরজায়। ফাল্গুনকে বরণ করতে প্রকৃতির মতোই একটু অন্য রকম সাজে নারীরা আজ সেজেছে তাদের নিজস্ব স্টাইলে। ফাল্গুনের এই দিনে বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুলের মালা, হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি, আর কপালে লাল টিপ, যেন পুরোপুরি বাঙালিয়ানার সাজ। পোশাকের সঙ্গে সাজেও চাই একটু রঙের আভা।

‘দখিন সমীরণের শিহরণ’ জাগানোর মাহেন্দ্র দিন এলো। মাতাল হাওয়ায় কুসুম বনের বুকের কাঁপনে, নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে উঠবার আভাসে, পল্লব মর্মরে আর বনতলে কোকিলের কুহুতান জানান দিচ্ছে : ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে..। আজ বিপুল ঐশ্বর্যের ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজি দখিন-দুয়ার খোলা/ এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো..। আজ পয়লা ফাল্গুন। গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/ আজ বসন্ত…
বনের মতো মনেও অদ্ভুত এক শিহরণ জাগানিয়া দিন এখন। রূপ লাবণ্যে জেগে উঠেছে প্রকৃতি, রঙিন চারপাশ। বৃক্ষের নবীন পাতায় আলোর নাচন! গোলাপ, জবা, পারুল, পলাশ, পারিজাতের হাসি। সেই প্রাচীন প্রাকৃত পেঙ্গলের দিকে তাকালে আমরা দেখবো বসন্তরাজের করতলে ভালোবাসার নৈবেদ্য তুলে দিতে কেমন ব্যস্ত কবিরা। বসন্তের বন্দনা করে একটি পংক্তিও লেখেননি, এমন বাঙালি কবি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই পেয়েছে নানা অনুপ্রাস, উপমা, উেপ্রক্ষায় নানাভাবে। হালে শহরের যান্ত্রিকার আবেগহীন সময়ে বসন্ত যেন কেবল বৃক্ষেরই, মানুষের আবেগে নাড়া দেয় কমই। কবির ভাষায়-মানুষের হৃদয় আজ আনন্দে ভরে উঠুক/দুঃখগুলি সব ঝরে যাক/মানুষের মন হোক অনন্ত,/আজ যে বসন্ত..।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply