নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আদালতের নির্দেশনা আংশিক মেনে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ এপ্রিল রোববার ঢাকার ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সভায় ৪০ জন উদ্যোক্তা ও পরিচালক অংশ নেন।
এদিকে সোমবার মাত্র কয়েক ঘন্টার নোটিশ দিয়ে বাংকের গুলশান কার্যালয়ে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এজিএম সভাসূতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট থেকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল সভায় তা পুরোপুরি পালন করা হয় নি।
সভায় উপস্থিত একাধিক উদ্যোক্তা জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান ফরাছত আলীকে এজিএমএ সভাপতিত্ব করতে বলা হলেও তিনি তা না করে সভা পরিচালনার দায়িত্ব ভাইস চেয়ারম্যান তৌফিক রহমান চৌধুরীর কাছে তুলে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উদ্যোক্তা বলেন, এতে করে হাইকোর্টের রায়কে সরাসরি অমান্য করলেন ফরাছত আলী এবং চেয়ারম্যান হিসেবে বাংক পরিচালনায় নিজের ব্যর্থতার আবার পরিচয় দিলেন।
জানা যায়, বাংকের নিয়মনীতি মেনে নিয়ে গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন বোর্ড সদস্য নির্বাচিত করতে হাইকোর্ট থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাও মানা হয়নি এজিএমে। চেয়ারম্যান ফরাছত আলী ও ভাইস চেয়ারম্যান তৌফিক চৌধুরী দুইজনই আইন ও কোর্টের আদেশকে অবজ্ঞা করেছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তার।
তাছাড়া সভায় সব আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে তৌফিক চৌধুরী নিজের পচ্ছন্দের তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালককে নিয়োগের প্রচেষ্টা চালালেও শেয়ার হোল্ডার ও পরিচালকদের প্রতিবাদে তিনি তা কার্যকর করতে পারেন নি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংকের ওয়েবসাইটেও কোন পরিবর্তন দেখা যায় নি।
আর কোর্টের রায়ে তুষার ইকবাল রহমানকে পরিচালকের মর্যাদা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তাকে শুধু শেয়ার হোল্ডারের মর্যাদা দেওয়া হয়।
একাধিক উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় পক্ষপাতদূষ্টের ভূমিকায়ও ছিলেন চেয়ারম্যান ফরাছত আলী । সভা চলাকালিন সময়ে ফরাছত আলী তাঁর ভাইকে কথা বলতে বেশি সময় বরাদ্ধ দেন যা ছিল বাংকের নিয়মনীতির পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, সভা চলাকালিন কোন এক সময়ে ফরাছত আলীকে ঘুমিয়ে থাকতেও দেখা যায় বলে জানা যায়।
সভায় আরও জানানো হয়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেনীবিন্যাস ৠনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাংলাদেশ বাংকের তদন্ত সাপেক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৠনের পরিমাণ গিয়ে দাড়ায় ১২৭ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৬ ডিসেম্বরে এসে ৠনের অর্থ নেমে তা ১৬ কোটির কথা উল্লেখ করলে কিছুইতেই মানতে রাজি হন নি উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা।
সভায় উপস্থিত একাধিক উদ্যোক্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালক এস এম তমাল পারভেজ, রফিকুল ইসলাম আরজু ও মো. আদনান ইমাম এবং সাবেক পরিচালক তুষার ইকবাল রহমানকে এজিএমে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে বাধ্য হয় ব্যাংকটির পর্ষদ। অনেক দিন ধরে তারা ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় তাঁদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সভায় ৫৩ জন উদ্যোক্তার মধ্যে ৪০ জন অংশ নেন।
গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমানের অবকাশকালীন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আদেশ দেন, এনআরবিসি ব্যাংকের এজিএম হতে বাধা নেই। যেসব স্থানে তিন পরিচালকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা পুনঃস্থাপন করতে হবে। পুরো এজিএমের কার্যবিবরণী ভিডিও ধারণ করতে ব্যাংকের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে গত ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ফরাছত আলী ও এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানকে শোকজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফরাছত আলীর বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং দেওয়ান মুজিবর রহমানকে কেন অপসারণ করা হবে না—নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply